আগামী অর্থবর্ষের জন্য কেন্দ্রীয় বাজেট ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এটি তৃতীয় মোদি সরকারের দ্বিতীয় বাজেট। প্রত্যাশিতভাবেই এই বাজেট সংস্কারমুখী, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। অর্থমন্ত্রীর ভূয়ষী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র বলেছেন, “নির্মলাজির এই বাজেট ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি বানাবে।” যদিও বিরোধীরা খুশি নন বিজেপি সরকারের এই বাজেটে। প্রশ্ন হল, কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-'২৭-কে কীভাবে দেখছেন দেশের উদ্যোগপতিরা? যে কোনও দেশের আর্থিক বৃদ্ধির অন্যতম কাণ্ডারি তো তাঁরাই। এই বিষয়ে কী বলছেন বাংলার উদ্যোগপতিরা?
২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটকে প্রবৃদ্ধিমুখী এবং শিল্পবান্ধব বলেই অভিহিত করেছেন আরপিএসজি গোষ্ঠীর কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। সমাজমাধ্যমে কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, "২০২৬ সালের বাজেট আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে একটি সুস্থির পথের রূপরেখা তুলে ধরেছে। উচ্চ মূলধনী ব্যয় ১২.২ লক্ষ কোটি, প্রতিরক্ষায় বরাদ্দ বেড়েছে। উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে। MSME, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া ক্ষেত্রকে মজবুত করতে দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা।"
অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়াও বাজেটের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, "২০২৬-এর কেন্দ্রীয় বাজেটে ধারাবাহিক ভাবে পরিকাঠামো উন্নয়নের শক্তিতে আর্বান ভারতকে বদলের প্রচেষ্টা রয়েছে। মূলধনী ব্যয় ৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা করা স্বাগত জানানোর মতোই একটি পদক্ষেপ।" এর ফলে উন্নয়নের গতি বজায় থাকবে। সামগ্রিক ভাবে "এই বাজেট দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির জন্য শক্তিশালী ভিত তৈরি করবে।"
২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটকে প্রবৃদ্ধিমুখী এবং শিল্পবান্ধব বলেই অভিহিত করেছেন আরপিএসজি গোষ্ঠীর কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা।
ইমামি গ্রুপের ডিরেক্টর আদিত্য বর্ধন আগরওয়াল কেন্দ্রীয় বাজেটকে 'ভবিষ্যৎমুখী' বলেছেন। তাঁর বক্তব্য, "২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট ভারতের প্রবৃদ্ধির দিকে একটি আত্মবিশ্বাসী এবং ভবিষ্যৎমুখী পদক্ষেপ। পরিকাঠামো, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে।" পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাজেট কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতার জন্য শক্তিশালী ভিত তৈরি করবে বলেও আশাবাদী ইমামি গ্রুপের ডিরেক্টর।
প্যাটন গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্জয় বুধিয়ার কথায়, ২০২৬-'২৭ সালের ঘোষিত কেন্দ্রীয় বাজেট "দেশ ও নাগরিকদের আর্থিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা উন্মোচন করা ইতিবাচক বাজেট।" তিনি আরও বলেছেন, "বর্তমান সময়টা অস্থির। বাণিজ্য উত্তেজনা, বৈশ্বিক প্রতিকূলতা-সহ একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অন্যদিকে এটাই বিশ্ব অর্থনীতির বৃহত্তর অংশীদার হওয়ার উপযুক্ত সময়। রপ্তানি হতে পারে প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন। এর ফলে বৃহত্তর পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।" পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাজেট একদিনের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি একটি কাজ। অর্থমন্ত্রীর হাতে কোনও জাদুকাঠি নেই যে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সকল চ্যালেঞ্জ সমাধান করতে পারবেন।"
গতবারের তুলনায় এবার বাজেট বরাদ্দ বেড়েছে ১৬৯০ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, গতবারের তুলনায় এবার বাজেট বরাদ্দ বেড়েছে ১৬৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মহাকাশ গবেষণায় থাকছে ৬ হাজার ১০৩ কোটি টাকা। ১ এপ্রিল চালু হবে নয়া আয়কর আইন। নির্মলার ঘোষণা, এবার থেকে ছোটখাটো কর ফাঁকি দিলেও আর জেলযাত্রা হবে না।তবে আয়কর কাঠামোয় কোনও বদলের কথা ঘোষণা করেননি অর্থমন্ত্রী। প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েছে গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ। পণ্য পরিবহণে জুড়েছে বাংলা-গুজরাট, ঘোষণা করা হয়েছে দুর্গাপুর শিল্প করিডর ও বারাণসী-শিলিগুড়ি রেল করিডরেরও। পরিষেবা ক্ষেত্রে এআই-এর মতো নতুন প্রযুক্তির প্রভাব পর্যালোচনা করার জন্য একটি নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে। চাকরির উপরে এআই-এর প্রভাবের মূল্যায়ন করাই ওই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির দায়িত্বে থাকবে। বাজেটে সস্তা হয়েছে ক্য়ানসারের ওষুধ। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও দরাজ হস্ত নির্মলা। যদিও বাজেট ঘোষণার পরই নির্মলার সমালোচনায় মুখর হয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলি। তাদের বক্তব্য বাস্তব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব পড়বে না এই বাজেটের।
