বুধবার ভারত মহাসাগরে ইরানি রণতরীর উপর হামলা চালিয়েছে মার্কিন সাবমেরিন। ওই ঘটনায় ৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৪৮ জন নিখোঁজ। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ-সহ যাবতীয় যুদ্ধ নিয়ে শান্তির বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে তাঁর বার্তা, “আমরা দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি যে, কেবল সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয় না।” ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি এদিন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও একই বার্তা দিলেন মোদি।
ভারতে সফরে দিল্লিতে এসেছেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব। এদিন ইউরোপের প্রতিনিধিকে পাশে বসিয়ে যুদ্ধের বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি দেন মোদি। তিনি বলেন, "ভারত এবং ফিনল্যান্ড উভয়ই আইনের শাসন, আলোচনা এবং কূটনীতিতে বিশ্বাস করে। ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া, আমরা একমত যে কেবল সামরিক সংঘাতের মাধ্যমে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। আমরা সংঘাতের দ্রুত অবসান এবং শান্তির জন্য সকল প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে যাব।"
বৃহস্পতিবার ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদি। এর পর ভারতের সঙ্গে ইউরোপের সুসম্পর্কের কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “বর্তমানে গোটা বিশ্ব একটা অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের নানা প্রান্তে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া। এই পরিস্থিতিতে ভারত এবং ইউরোপ বিশ্বের দুই বিরাট গণতান্ত্রিক শক্তি সম্পর্কের সোনালী অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া আন্তর্জাতিক সুস্থিতি, উন্নয়নকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করবে।” পাশাপাশি মোদির দাবি, জটিল বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সামলানোর জন্য আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলির সংস্কার প্রয়োজন। এই সঙ্গে সব ধরনের জঙ্গিবাদ মূলোৎপাটন জরুরি।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইজরায়েল সফরের পরেই গত শনিবার ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে মৃতের সংখ্যা দু'হাজার ছাড়িয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের পুরনো বন্ধুর বিরুদ্ধে ইজরায়েল-আমেরিকা যুদ্ধ ঘোষণার পর একাধিকবার শান্তিপ্রস্তাব দিয়েছেন মোদি। যদিও সরাসরি ইরানের পক্ষে দাঁড়ায়নি ভারত। এই নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি।
