নজরে পাঁচ রাজ্যের ভোট। সেই রাজনৈতিক আবহেই আজ, রবিবার সংসদে পেশ হতে চলেছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট। এবারের বাজেটে ভোট রাজনীতির অঙ্ক কষেই কি পা ফেলবেন নির্মলা। অর্থনীতির দলিলের থেকে বেশি বাজেটকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবেই কি ব্যবহার করা হবে এবারেও। ঠিক যেমন গত বাজেটে বিহারের জন্য একাধিক বড় ঘোষণায় রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। এবারেও তেমন চিত্র উঠে এলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলা, অসম, তামিলনাডু, কেরল, পুদুচেরিতে চলতি বছরেই বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। ভোটমুখী চার রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরির দিকে এবারের বাজেটে নজর থাকবে। তবে প্রশ্ন উঠছে, গতবারের বিহারের মতো এবারেও কি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে আরেক বিজেপি শাসিত রাজ্য অসমকেই। নাকি বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলাকেও খুশি করার চেষ্টা করবে মোদি সরকার? নাকি অন্যান্য বছরের মতোই কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার ঝুলি ফের শূন্যই থাকবে? আবার দক্ষিণের রাজ্যগুলির দিকেও নজর রয়েছে বিজেপির। ভোট অঙ্কেই দক্ষিণের প্রতি নিমর্লার কিছু দাক্ষিণ্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত বাজেট ছিল স্পষ্টতই ভোটমুখী। বিহারের জন্য একের পর এক প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, শিল্প স্থাপনের ঘোষণা-সব মিলিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল কেন্দ্র। এ বছর পরিস্থিতি আলাদা। পাঁচ রাজ্যের মধ্যে বাংলাই রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদিও সুত্রের খবর, বাজেটে বাংলার জন্য বড় কোনও প্যাকেজ বা বিশেষ ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে, তারমধ্যেই কিছু চমক থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গে এইমস তৈরির ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। আরও কিছু দেওয়া হতে পারে। কারণ, আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে বাজেটে যদি বাংলাকে একেবারেই বঞ্চিত করা হয়, তাহলে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার যে অভিযোগ রয়েছে, তাতেই সিলমোহর পড়বে। সেই ঝুঁকি সামলাতে আজ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের দাওয়াই কী হবে, তার উত্তর মিলবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।
এবারের বাজেটের লক্ষ্য স্পষ্ট-মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের সামাল দেওয়া। লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব আর আয়করের বোঝায় নাজেহাল সাধারণ মানুষ করছাড়ের দিকে তাকিয়ে। আয়কর কাঠামোয় কিছু ছাড় দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে, কিন্তু তা কতটা বাস্তবে স্বস্তি দেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কর কমলেও নিত্যপণ্যের দাম না কমলে মধ্যবিত্তের হাঁফ ছাড়ার সুযোগ নেই। কৃষি, গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানোর ঢাকঢোল পেটানো হতে পারে। মনরেগা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, স্বাস্থ্য প্রকল্প-সবই ভোটের অঙ্কে জরুরি। স্টার্টআপ, ডিজিটাল অর্থনীতি আর সবুজ শক্তির নামে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানোর চেষ্টা করা হবে বাজেটকে সামনে রেখে। সব মিলিয়ে এবারের বাজেট শুধু আর্থিক নথির চেয়ে বেশি রাজনৈতিক চাল। কে পাবে, কে বঞ্চিত হবে-তা ঠিক করবে ভোটের অঙ্ক। সেই অঙ্কে বাংলার অবস্থান আদৌ বদলাবে কি না, নাকি ফের উপেক্ষার তালিকায় নাম উঠবে, তা জানা যাবে ঘোষণার পরেই।
আজ সকাল এগারোটায় বাজেট পেশ করবেন নির্মলা। ছক ভাঙতে পারেন নির্মলা, জল্পনা তুঙ্গে। ৭৫ বছরের বাজেট-রেওয়াজ ভেঙে বক্তৃতার পার্ট বি-তেই ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন তিনি।
