ঘুষকাণ্ডে আমেরিকা থেকে আসা সমন গ্রহণে রাজি হলেন শিল্পপতি গৌতম আদানি (Gautam Adani) এবং তাঁর ভাইপো সাগর আদানি। আমেরিকার সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)-এর পাঠানো সমন আদানিদের দেওয়ার জন্য গত বছর আহমেদাবাদের আদালতকে বলেছিল কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক।
গৌতমের মালিকানাধীন ‘আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড’ (এজিএল) বাজারের চেয়ে বেশি দামে সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির বরাত পেতে অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের (যার মধ্যে মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন) ঘুষ দিয়েছিল বলে অভিযোগ। দাবি, ঘুষের অঙ্ক ২৬.৫ কোটি ডলার (২০২৯ কোটি টাকা)। তিনটি অভিযোগের ভিত্তিতে আমেরিকার ন্যায়বিচার দফতর এবং বাজার নিয়ন্ত্রক এসইসি সংস্থা এসইসি (সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) যথাক্রমে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে অভিযোগপত্র পেশ করেছিল। তার ভিত্তিতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে এ বিষয়ে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন জেলা আদালতে আদানিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।
ফৌজদারি অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে ১৯৭৭ সালে চালু হওয়া আমেরিকার ঘুষ বিরোধী আইন ‘ফরেন কোরাপ্ট প্র্যাক্টিসেস আ্যাক্ট’ (এফসিপিএ) লঙ্ঘনের পাশাপাশি সিকিয়োরিটিজ় (শেয়ার এবং ঋণপত্র) সংক্রান্ত এবং ওয়্যার (টেলিফোন-সহ বৈদ্যুতিন যোগাযোগ মাধ্যম) ব্যবহার করে প্রতারণার ষড়যন্ত্র। দেওয়ানি আইনেও অভিযোগ আনা হয়েছে শেয়ার এবং ঋণপত্রের বাজারের নিয়ম লঙ্ঘন সংক্রান্ত প্রতারণার।
হেগ কনভেনশনের সাহায্য নিয়ে এসইসি সমন পাঠিয়েছে ভারতে। আইনি সহযোগিতার এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতও অন্যতম শরিক। তাই এ বিষয়ে পদক্ষেপ করতে এ রকম বাধ্যই হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার। তার ভিত্তিতেই ওই সমন আদানির ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য আহমেদাবাদের আদালতকে বলেছিল আইন মন্ত্রক। শুরুতে এ ব্যাপারে খানিক অনীহা দেখালেও শেষ পর্যন্ত সমন গ্রহণে সম্মত হয়েছেন গৌতম-সাগর। পিটিআই জানিয়েছে, আদানির মার্কিন আইনজীবীরা ওই সমন গ্রহণ করবেন। তার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে আদালত। ৯০ দিনের মধ্যে নিজেদের অবস্থান জানাতে পারবেন আদানিরা।
