ন'বছরের সময়কাল। তার মধ্যেই যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশ আজ শীর্ষে আসীন। শুক্রবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট অধিবেশনে এমনই দাবি করেন যোগী। দেশের প্রধান তিনটি রাজ্যের একটি হয়ে উঠতে পেরেছে উত্তরপ্রদেশ। যোগী জামানায় এই উত্তরণ এক বিরাট প্রাপ্তি বলেই মনে করা হচ্ছে। সঠিক নীতি, স্বচ্ছ মনোভঙ্গি ও দক্ষ আর্থিক ব্যবস্থাপনাই এই ভোলবদলের নেপথ্যে আসল চাবিকাঠি।
বিরোধী শিবিরের যাবতীয় প্রশ্ন উড়িয়ে দিয়ে ৯ লক্ষ ১২ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকার এই বাজেটকে 'ঐতিহাসিক' বলে তকমা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এটি যোগী সরকারের টানা দশম বাজেট। আর্থিক শৃঙ্খলার খতিয়ান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৬-১৭ সালে রাজ্যের রাজকোষ ঘাটতি ছিল ৪.৩৯ শতাংশ, যা ২০২৫-২৬ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ২.৯৭ শতাংশে। ঋণের বোঝা ৩০ শতাংশ থেকে কমে ২৬ শতাংশে নেমেছে। আগামী অর্থবর্ষে তা আরও কমিয়ে ২৩ শতাংশে আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
আর্থিক উন্নতির নিরিখে মুখ্যমন্ত্রী দেখিয়েছেন, ২০১৬-১৭ সালে রাজ্যে মাথাপিছু আয় ছিল ৪৩ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের শেষে তা ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে তাঁর দাবি। রাজ্যের জিএসডিপি ১৩ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৬ লক্ষ কোটি। লক্ষ্য এখন ৪০ লক্ষ কোটিতে পৌঁছনো। কর্মসংস্থান এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে মূলধনী ব্যয় ৭১ হাজার কোটি থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ ৭৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পরিকাঠামোয় এক টাকা বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে তা পাঁচ থেকে ছয় গুণ রিটার্ন দেয়। তাঁর লক্ষ্য এখন উত্তরপ্রদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা। বিরোধী দলনেতা মাতা প্রসাদ পান্ডে থেকে শুরু করে শিবপাল যাদব— সকলের বক্তব্য শুনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৬৭ জন সদস্যের সক্রিয় অংশগ্রহণ রাজ্যের সংসদীয় ঐতিহ্যের গরিমা বাড়িয়েছে। যোগীর মতে, একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সমস্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব।
