দেশে প্রথমবার এআই সম্মেলনের আয়োজন করেছে মোদি সরকার। আর সেখানে চিনা রোবো কুকুর নিয়ে এসে তা নির্মাণের কৃতিত্ব নিতে চেয়ে বিতর্কে নয়ডার গ্যালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়! ভিডিও ভাইরাল হতেই চর্চা শুরু অধ্যাপিকা নেহা সিংকে নিয়ে। যন্ত্র-সারমেয় 'ওরিয়ন'-কে তাঁদের সংস্থার তৈরি বলেই দাবি করেছিলেন তিনি। এবার শোনা যাচ্ছে, সেই নেহাকেই নাকি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে মুখ খুলল প্রতিষ্ঠান।
কেন হঠাৎ এমন চর্চা? আসলে লিঙ্কড ইনে নেহার একটি পোস্ট ঘিরেই জল্পনা তুঙ্গে। তিনি নিজের স্টেটাস দিতে গিয়ে লিখেছেন, 'ওপেন টু ওয়ার্ক'। ফলে মনে করা হচ্ছে, চাকরি হারিয়ে কাজ খুঁজছেন নেহা। এই অবস্থায় গ্যালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, এই জল্পনা সত্যি নয়। বরখাস্ত করা হয়নি নেহাকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নীতীনকুমার গৌর বলেছেন, ''ওঁকে সাসপেন্ড করা হয়নি। থাকতেই বলা হয়েছে। যতদিন না বোঝা যাচ্ছে এই ভুলটা কী করে হল, ততদিন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলবে। একজনের ভুলের দায় গোটা বিশ্ববিদ্যাসয়ের কাঁধে চাপানো যায় না। যা হয়েছিল তা ভুল। এবং আমরা সেজন্য ক্ষমাপ্রার্থী।''
এদিকে নেহার মতে, এই ভুলটা হয়েছে স্রেফ যোগাযোগের সমস্যার কারণেই। তিনি সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ''বিতর্ক উসকে উঠেছিল বিষয়টা পরিষ্কার করে না বোঝাতে পারার জন্য।'' তাঁর পরিষ্কার দাবি, ''আমরা কখনওই দাবি করেনি এটা আমাদের তৈরি। আমি বলেছিলাম, আমাদের পড়ুয়াদের অনুপ্রাণিত করতে এর চেয়েও ভালো কিছু তৈরি করে চাই আমরা।''
বিতর্কের সূত্রপাত ‘ওরিয়ন’ নামক নজরদারি রোবো কুকুর নিয়েই সম্মেলনে গ্যালগোটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা আসার পরে! একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে, যেখানে নেহা সিং নাম্নী এক অধ্যাপক দাবি করছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠাবন ৩৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণায়। তারই ফলশ্রুতি ওই যন্ত্র-সারমেয়। যে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঘুরে বেরিয়ে নিজে নিজেই নজরদারি চালাতে পারবে। আর এতেই হাসির রোল ওঠে। কেননা যে রোবো কুকুর নিয়ে এমন দাবি, তা আসলে চিনা যন্ত্রকুকুর। ‘ইউনিট্রি জিও২’ নামের ওই রোবটটি একটি বাণিজ্যিক পণ্য। দাম ২৮০০ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় মোটামুটি ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। সেই কুকুরকেই নিজেদের তৈরি বলে চালানোর চেষ্টাতেই ঘটে গেল বিপত্তি!
