দেশের অন্যতম জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) এবার গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড়সড় রদবদল আনতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের লক্ষ্য, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে উত্তরপ্রদেশকে একটি স্বনির্ভর এবং উদ্যোক্তা-নির্ভর রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলা। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের গ্রামগুলি থেকে প্রায় এক কোটি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, আগামী পাঁচ বছরে রাজ্যে ১৫ লক্ষ নতুন শিল্প বা উদ্যোগ স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মূল ভিত্তি হবে ‘জাতীয় গ্রামীণ জীবিকা মিশন’ (NRLM)। এর মাধ্যমেই গ্রামের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সরাসরি ব্যবসার আঙিনায় নিয়ে আসা হবে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী থেকে অন্তত একজন সদস্যকে বা পুরো গোষ্ঠীকে নতুন ব্যবসা শুরু করতে উৎসাহিত করা হবে।
কৃষিকাজের পাশাপাশি অকৃষি ক্ষেত্রেও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছে যোগী সরকার। জেলা স্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে একেবারে তৃণমূল স্তরে গিয়ে সাধারণ মানুষকে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সীমিত সংস্থান নিয়ে যে মহিলারা সফল হয়েছেন, তাঁদের উদাহরণ তুলে ধরে অন্যদেরও উৎসাহিত করা হচ্ছে।
নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradesh) বড় মাইলফলক ছুঁতে চাইছে। উত্তরপ্রদেশের ১৪ জন 'লাখপতি দিদি' এ বছর দিল্লিতে সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। যা রাজ্যের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগ কেবল কর্মসংস্থান তৈরি করবে না, বরং গ্রামীণ এলাকা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমাতেও সাহায্য করবে। গ্রামেই উপার্জনের পথ তৈরি হলে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। উত্তরপ্রদেশের এই ‘বিকাশ’ মডেল আগামী দিনে অন্যান্য রাজ্যের কাছেও উদাহরণ হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
