দেশের সবথেকে জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশ। প্রায় ২৪ কোটি মানুষের বাস। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সামলানো এখানে বরাবরই এক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এবার ছবিটা বদলাতে শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ডিজিটাল লক্ষ্যকে সামনে রেখে উত্তরপ্রদেশ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’-কে হাতিয়ার করে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বড় বিপ্লব আনছে। রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক এবং দ্রুত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোই মূল লক্ষ্য সরকারের।
রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (স্বাস্থ্য) অমিত কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, গত সাড়ে আট বছরে উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী রাজ্যে কাজ করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন আশা কর্মী, এএনএম এবং নার্সরা। তাঁদের কাজের গতি বাড়াতে ই-সঞ্জীবনী, নিঃক্ষয় এবং আরসিএইচ-এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলি এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। আগে এই পোর্টালগুলি কেবল তথ্য সংগ্রহের কাজে লাগত। এখন তা সরাসরি নীতি নির্ধারণ ও দ্রুত সিদ্ধান্তে সাহায্য করছে।
প্রশাসনের দাবি, ই-সঞ্জীবিনীর মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশ এখন দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি টেলি-কনসালটেশন দেওয়া রাজ্যে পরিণত হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ ঘরে বসেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ পাচ্ছেন। এর পাশাপাশি চালু হয়েছে ক্লিনিক্যাল ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেম (সিডিএসএস)। এটি মূলত চিকিৎসকদের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। রোগীর লক্ষণ ও পুরনো তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি বাতলে দেয় এই ব্যবস্থা। এতে চিকিৎসকদের কাজের চাপ কমছে এবং নির্ভুল চিকিৎসার হার বাড়ছে।
টিবি বা যক্ষ্মা নির্মূলেও এআই-এর প্রয়োগ নজরকাড়া। নিঃক্ষয় পোর্টালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি আগেভাগেই চিহ্নিত করা যাচ্ছে। একই প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমাতেও। হাই-রিস্ক প্রেগন্যান্সি বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা শনাক্ত করতে ডিজিটাল অ্যালার্ট পাঠানো হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের। এমনকি ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ শনাক্ত করতেও এআই মডেল ব্যবহার করা হচ্ছে।
যোগী সরকারের মূল দর্শন হল, এআই চিকিৎসকের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক। মানুষের চাহিদাকে মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে এই মানবিক প্রযুক্তি। উত্তরপ্রদেশ এখন ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবায় দেশের সামনে এক নতুন মডেল হিসেবে উঠে আসতে চাইছে।
