কারও বয়স তিন। আবার কারও বয়স ষোলো। প্রায় ১০ বছর ধরে এরকমই ৩৩ জন নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল উত্তরপ্রদেশের এক দম্পতির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি পকসো আইনে তারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তাদের মৃত্যুদণ্ড দিল বান্দার এক আদালত।
২০২০ সালে রামভবন, তার স্ত্রী দুর্গাবতি এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছিল সিবিআই। তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানতে পারে, অভিযুক্তরা যে যৌন অপরাধ করেছে, তা এককথায় বর্বর। বহু শিশুর যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে বছরের পর বছর ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এখানেই শেষে নয়। অত্যাচারের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে কারও চোখেও গুরুতর আঘাত লেগেছিল। কেউ কেউ আবার মানষিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের বান্দা এবং চিত্রকূটে এই নির্মম ঘটনাগুলি ঘটেছিল বলে দাবি সিবিআইয়ের।
২০২০ সালে তদন্ত শুরুর পরই সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হয় রামভবন এবং দুর্গাবতি। তদন্তকারীদের একটি সূত্রের খবর, ভিডিও গেম এবং উপহার দেওয়ার নাম করে শিশুদের প্রলুব্ধ করত ওই দম্পতি। এরপরই তাদের কার্যত অপরহরণ করে নিয়ে এসে অত্যাচার করা হত। এমনকী তাদের ছবি এবং ভিডিও মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হত ডার্ক ওয়েবে। শুধু তা-ই নয়, সেগুলি ছড়িয়ে পড়ত বিভিন্ন পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটেও।
আদালত দম্পতিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে জানিয়েছে, এই ঘটনা বিরলের মধ্যে বিরলতম। এই ধরনের অপরাধ কেবল শিশুদের জীবন ধ্বংস করে না, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও নাড়িয়ে দেয়।
