shono
Advertisement
Rail Property

আর্থিক সংস্কারে 'বেচারাম নীতি'! রেলের সম্পত্তি ও শেয়ার বেচে ২.৫ লক্ষ কোটি আয়ের ভাবনা কেন্দ্রের

এই পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করেছে নীতি আয়োগ। রেলমন্ত্রক, অর্থমন্ত্রকের ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এই বিষয়ে নীতি আয়োগের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে। 
Published By: Amit Kumar DasPosted: 05:37 PM Feb 21, 2026Updated: 07:32 PM Feb 21, 2026
আর রাখঢাক নয়, আর্থিক সংস্কারের নামে সরকারি সংস্থার বেসরকারিকরণে জোয়ার আনতে মোদি সরকার। রাজকোষের ঘাটতি মেটাতে এবার ঢালাও সরকারি সংস্থাগুলির শেয়ার ও সম্পত্তি বিক্রির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে শুধুমাত্র রেলের সম্পত্তি ও শেয়ার বেঁচে আড়াই লক্ষ কোটি টাকা তোলার টার্গেট কেন্দ্রের। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সরকারের অস্ত্র 'ন্যাশনাল মনিটাইজেশন পাইপলাইন' (NMP)। 
 
এনএমপি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রথম পর্বে এলআইসি-র শেয়ার ও এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রি করেছিল নরেন্দ্র মোদির সরকার। এরপর কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, সরকারি সরকারি সংস্থার তালিকা তৈরি হলেও থমকে যায় সেই কাজ। এবার নতুন করে সেই কাজে জোয়ার আনতে চাইছে মোদি সরকার। লক্ষ্য শুধুমাত্র রেলের সম্পত্তি ও রেলের একাধিক সংস্থার শেয়ার বিক্রি করে আড়াই লক্ষ কোটি টাকা রাজকোষে ঢোকানো। জানা যাচ্ছে, এই পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করেছে নীতি আয়োগ। রেলমন্ত্রক, অর্থমন্ত্রকের ডিপার্টমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট এই বিষয়ে নীতি আয়োগের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে। 
 

রেলের সংস্থায় সরকারের অংশীদারিত্ব কমিয়ে ৫১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রেলের সংস্থাগুলিতে সরকারের যে পরিমাণ অংশিদারিত্ব রয়েছে তার মূল্য সাড়ে ৪ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করলে ১ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব নয়।

 
জানা যাচ্ছে, সারা দেশে রেলের যত সম্পত্তি রয়েছে সেগুলিকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যায় কিনা, অব্যবহৃত জমি ও ভবন বিক্রি বা লিজে দেওয়া যায় কিনা বিশদে জানাতে বলা হয়েছে। রেলের ১৭টি জোনকে এই মর্মে তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। অর্থমন্ত্রকের তরফে জানা যাচ্ছে, বর্তমানে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ফিনান্স কর্পোরেশনে সরকারের অংশীদারিত্ব ৮৬.৩৬ শতাংশ। পাশাপাশি রেল বিকাশ নিগম (৭২.৮৪%), রাইটস (৭৩%), ইরকন ইন্টারন্যাশনাল (৬৫.১৭%) এবং রেলটেল (৬৫.১৭%) সংস্থায় সরকারের অংশীদারিত্ব কমিয়ে ৫১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, রেলের সংস্থাগুলিতে সরকারের যে পরিমাণ অংশিদারিত্ব রয়েছে তার মূল্য সাড়ে ৪ লক্ষ কোটি টাকা। ফলে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করলে ১ লক্ষ কোটি টাকার কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব নয়। এই অবস্থায় টাকা জোগাড় করতে রেলের সম্পত্তি, ভবন, জমি, ওয়্যারহাউস, গোডাউন, আবাসন, অফিস বিক্রি বা লিজ দেওয়া হতে পারে।
 
কিন্তু কেন সরকারি সম্পত্তি ও শেয়ার বিক্রির এত প্রয়োজন পড়ল মোদি সরকারের? সূত্রের খবর, এর নেপথ্যে রয়েছে অষ্টম পে কমিশনের রিপোর্ট। রিপোর্ট যখনই জমা পড়ুক না কেন, পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করতে হবে ২০২৬ সালের পয়লা জানুয়ারি থেকে। অর্থাৎ, দিতে হবে এরিয়ার। এতে মোট সাড়ে চার লক্ষ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে বলে আশঙ্কা সরকারের। দেশে কেন্দ্র ও রাজ্য মিলিয়ে সরকারি কর্মীদের বেতন ও পেনশনে খরচ পড়ে ২৫ লক্ষ কোটি টাকা। অষ্টম পে কমিশনে সেই অঙ্ক আরও বাড়বে। এর জেরেই কি নেহরু-ইন্দিরাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তি বিক্রির এত উদ্যোগ মোদি সরকারের। 
Advertisement
Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement