ক্রমশ বিবাদ বাড়ছে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন ও জ্যোতিষ পীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতীকে কেন্দ্র করে। তিনি নিজে কী ভাবে জ্যোতিষ পীঠের শঙ্করাচার্য উপাধি ব্যবহার করছেন, তা নিয়ে নোটিসও পাঠিয়েছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন। সেই আবহে শিশুদের যৌন হেনস্তার একটি মামলায় অভিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েরের নির্দেশ দিল উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের পকসো আদালত।
অভিমুক্তেশ্বরানন্দ তাঁর নিজের আশ্রমে অন্তত ২০ জন শিশুকে যৌন হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছেন শাকুম্ভরী পীঠাধীশ্বর আশুতোষ ব্রহ্মচারী মহারাজ। সেই মামলায় অতিরিক্ত জেলা বিচারক (পকসো) বিনোদ কুমার চৌরাসিয়া তদন্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ঝুঁসি থানায় অভিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হবে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএনআই।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে শুনানি চলাকালীন দুই নাবালকের বয়ান সংগ্রহ করা হয়েছিল। আদালতে একটি সিডিও জমা দিয়েছিলেন ব্রহ্মচারী মহারাজ। তিনি দাবি করেন, তাতে আশ্রমের ভিতরে শিশুদের নির্যাতনের প্রমাণ রয়েছে। বহু শিশুই তাঁকে নির্যাতনের কথা জানিয়েছে। তবে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সরকারবিরোধী অবস্থান এবং গরু রক্ষার বিষয় নিয়ে সরব হওয়ার কারণেই কিছু মানুষ তাঁকে নিশানা করেছেন। ষড়যন্ত্র করেই তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ। তিনি বলেন, "প্রয়োজনীয় প্রমাণ ইতিমধ্যেই আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সত্য শেষ পর্যন্ত প্রকাশ পাবে।"
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে অনুগামীদের নিয়ে প্রয়াগরাজের সঙ্গমে স্নান করতে গিয়েছিলেন সরস্বতী। প্রবল ভিড়ের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সরস্বতীকে পালকি ছেড়ে হেঁটে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে স্নান করতে যাওয়ার পরামর্শ দেয় প্রশাসন। কেন তাঁকে আটকানো হয়েছে— এই যুক্তিতে বাধাদানের স্থানে অনশন শুরু করেন সরস্বতী। তারপরেই সরস্বতীকে নোটিস ধরান প্রয়াগরাজ মেলা কর্তৃপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের একটি মামলার উল্লেখ করে তাতে বলা হয়, যতদিন পর্যন্ত ওই মামলার নিষ্পত্তি না হচ্ছে ততদিন কোনও ধর্মীয় নেতাকে জ্যোতিষ পীঠের শঙ্করাচার্য হিসেবে ঘোষণা করা যাবে না বলে জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।
