ছেলে মস্ত বড় ডাক্তার হবে, স্বপ্ন ছিল বাবার। কিন্তু স্বপ্ন দেখাই কাল। ৪৯ বছর বয়সি বাবাকে গুলি করে খুন করে দিল ছেলে। শুধু তাই নয়, খুনের পর বাবার দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে ড্রামেও ভরে রেখেছিল সে। ১৯ বছর বয়সি ছেলের এহেন কাণ্ড দেখে স্তম্ভিত পুলিশ থেকে আমজনতা। আপাতত ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়েছে। আটক করা হয়েছে 'গুণধর' ছেলেকে।
নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh)। জানা গিয়েছে মৃতের নাম মানবেন্দ্র সিং। তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র উত্তরপ্রদেশ পুলিশে কর্মরত। ছোট ছেলে অক্ষত পড়াশোনায় বেশ ভালো, দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেয়েছিলেন। তাই বাবার ইচ্ছা ছিল, ছেলে ডাক্তার হোক। সেকারণেই নিট পাশ করার জন্য কিছুটা জোরাজুরি করতেন। বাবা জোর করেন, সেই রাগেই গত ২০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ বাবাকে গুলি করে হত্যা করেন অক্ষত। সেই দৃশ্য দেখে ফেলে অক্ষতের বোন।
বাবাকে খুন করেই ক্ষান্ত থাকেনি অক্ষত। মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে ফেলে। কিছু অংশ একটি নীল ড্রামে ভরে রাখে। বাকি দেহাংশ গাড়ি করে ফেলে আসে প্রত্যন্ত এলাকায়। ড্রামে ভরে রাখা দেহাংশ ফেলতে সোমবার বেরিয়েছিল অক্ষত। দেহাংশ ফেলতে গিয়েই টহলদারি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সে। সঙ্গে সঙ্গেই অক্ষতকে আটক করা হয়। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় কিছু দেহাংশ। ফেলে দেওয়া দেহাংশের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশি। খুনে ব্যবহৃত গুলি এবং রাইফেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বাবার একটি মদের দোকানে কাজ করত অক্ষত। মাসে ১৭ হাজার বেতনও পেত, তবে সেটায় খুশি ছিল না। জেরায় খুনের অভিযোগ স্বীকার করে অক্ষত জানিয়েছে, নিট পাশের জন্য বাবা জোর করতেন। বহুবার এই বাকবিতণ্ডাও হয়েছে দু'জনের। একবার বাড়ি ছেড়ে চলেও গিয়েছিল সে। এবার তর্কাতর্কির মাঝেই মেজাজ হারিয়ে খুন করেছে সে। গোটা ঘটনা দেখে ফেলা বোনকেও ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রেখেছিল অক্ষত। আপাতত পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে তাকে।
