ঝাড়খণ্ডের পর এবার আন্দামান। মঙ্গলবার সকালে ৭ সওয়ারিকে নিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ল হেলিকপ্টার পবনহংস (Pawan Hans)। জানা যাচ্ছে, আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণ পরই সমুদ্রে ভেঙে পড়ে সেটি। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, যান্ত্রিক সমস্যার জেরে পাইলট বাধ্য হয়েই হেলিকপ্টারটি সমুদ্রে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করান। সৌভাগ্যবশত ২ জন ক্রু মেম্বার-সহ হেলিকপ্টারের সকল যাত্রীই নিরাপদে রয়েছেন।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে পোর্ট ব্লেয়ার থেকে মায়াবন্দরের উদ্দেশে উড়ান ভরেছিল হেলিকপ্টারটি। তবে আকাশে ওড়ার পরই যান্ত্রিক ত্রুটি নজরে আসে পাইলটের। পবনহংসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সকাল ৯.৩০ নাগাদ জরুরি ভিত্তিতে হেলিকপ্টারটি সমুদ্রে ক্র্যাশ ল্যান্ডিং করানোর সিদ্ধান্ত নেন পাইলট। তার আগেই বিমান পরিচালন কর্তৃপক্ষকে গোটা বিষয়টি জানানো হয় পাইলটের তরফে। সমুদ্রে ক্র্যাশ ল্যান্ডিংয়ের পরই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় উদ্ধারকারী দল। কপ্টারে থাকা ৭ সওয়ারকেই উদ্ধার করা হয়েছে যাত্রীরা সামান্য চোট হলেও কেউই গুরুতর আহত হননি। তবে এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে পোর্ট ব্লেয়ার থেকে মায়াবন্দরের উদ্দেশে উড়ান ভরেছিল হেলিকপ্টারটি। তবে আকাশে ওড়ার পরই যান্ত্রিক ত্রুটি নজরে আসে পাইলটের।
উল্লেখ্য, গতকালই ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী দেখেছে দেশ। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিট নাগাদ রাঁচি থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর ঝাড়খণ্ডের ছাতরায় সিমারিয়া জঙ্গলে ভেঙে পড়ে সেটি। কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিট নাগাদ কলকাতা এটিএসের সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার ঠিক আগে ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল বিমানটি। এক সময় পাইলট ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায় যাওয়ার জন্য এটিএসের কাছে অনুমতি চায়। যদিও এর পরেই রাডার থেকে হারিয়ে যায় বিমানটি। দুর্ঘটনায় পাইলট, চিকিৎসক ও এক রোগী-সহ মোট ৭ জন ছিলেন। তাঁদের সকলেরই মৃত্যু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, পবনহংস হল দেশের বৃহত্তম সরকারি মালিকানাধীন হেলিকপ্টার সংস্থা। যার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯৮৫ সালে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয় এই হেলিকপ্টারগুলি। এমনকি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদরাও পবনহংসের পরিষেবা নিয়ে। এই কপ্টার সংস্থার প্রাথমিক লক্ষ্য হল সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিকে সংযুক্ত করা।
