ধাক্কা খেলেও তিনি দমে যান না। তাঁর নাম ঘিরে তামিলভূমে ওঠে একটাই রব-‘বিজয় ধান ভারুভারু…’, বাংলায় যার তর্জমা করলে দাঁড়ায়- ‘বিজয়ের জয় অবশ্যম্ভাবী।’ বিজয় অর্থাৎ টিভিকে সুপ্রিমো থলপতি বিজয় বৃহস্পতিবার সকালে আবারও পৌঁছে গেলেন তামিলনাড়ুর লোকভবনে। সরকার গঠনের জাদুসংখ্যা তাঁর হাতে রয়েছে, সেই প্রমাণ দিতেই গিয়েছেন থলপতি-এমনটা সূত্রের খবর। তাহলে কি বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন বিজয়?
বুধবার দুপুরে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে তামিলনাড়ু লোকভবনে গিয়ে দেখা করেন বিজয়। আর্জি জানান সরকার গঠনের। কিন্তু সূত্রের খবর, বিজয়ের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করেন রাজ্যপাল। তিনি এখনও সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কারণ বিজয়ের দল টিভিকে পেয়েছে ১০৮টি আসন। সরকার গড়তে গেলে আরও ১০টি আসন চাই। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস সমর্থন জানিয়েছে বিজয়কে। কিন্তু কংগ্রেসের কাছে পাঁচটি আসন রয়েছে। ফলে পাঁচটি আসন কম পড়ছে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে। সেকারণেই রাজ্যপাল জানিয়ে দেন, বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে পারবেন না বিজয়।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে ফের রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন টিভিকে সুপ্রিমো। জানিয়ে দেন, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা রয়েছে তাঁর কাছে। আস্থা ভোটেও রাজি টিভিকে। দলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, তারপরেও যদি রাজ্যপাল সরকার গঠনের অনুমতি না দেন তাহলে আইনি পথ খোলা রাখছে তারা। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, সব ঠিকঠাক থাকলে ১২৩ বিধায়কের সমর্থন পেতে পারেন বিজয়। বাম দলের বিধায়করা থাকতে পারেন বিজয়ের পাশে। এমনকি ডিএমকের জোটসঙ্গী ভিসিকে এবং বিজেপির জোটসঙ্গী পিএমকের তরফ থেকেও বিজয়কে সমর্থন করা হতে পারে।
তাহলে কি বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাবেন থলপতি? সেই সম্ভাবনা অবশ্য বেশ ক্ষীণ। বিজয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠতা মেনে নিয়ে রাজ্যপাল আস্থা ভোটের ডাক দিতে পারেন। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার শপথগ্রহণ কার্যত অসম্ভব। তবে সুপারস্টার যে নিজের লক্ষ্যের দিকে একধাপ এগিয়ে গিয়েছেন, সেটা নিশ্চিত। কিন্তু তামিলনাড়ুর সরকার গঠন নিয়ে ডামাডোল কবে কাটবে, বাড়ছে ধোঁয়াশা।
