ঘড়ির কাঁটা মাঝরাত পেরিয়েছে। তখনই কিনা পড়েছে প্রায় ১৭ লক্ষ ভোট! সময়সীমা পেরনোর বেশ কয়েক ঘণ্টা বাদে বলতে গেলে চোখের পলকে ভোট পড়েছে। মাত্র ৬ সেকেন্ডে পড়েছে একাধিক ভোট। চন্দ্রবাবু নায়ডুর অন্ধপ্রদেশে ২০২৪-এর বিধানসভা নির্বাচনে এমন 'অস্বাভাবিক' ভোট পড়েছে। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর বেনিয়মের অভিযোগে সরব হলেন অর্থনীতিবিদ পরাকলা প্রভাকর-সহ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ।
সেই নির্বাচনে ১৭৫টির মধ্যে ১৬৪টি বিধানসভা আসনে চন্দ্রবাবুর তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি), বিজেপি, পবন কল্যাণের জনসেনা জোট জয়ী হয়। চন্দ্রবাবু চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী হন। টিডিপি, বিজেপি, জনসেনা পায় যথাক্রমে ১৩৫, ৮৩ এবং ২১টি আসন।
কেন্দ্রের মোদি সরকারের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের স্বামী পরাকলা বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন নানা ইস্যুতে। দু'বছর পর পরকলা ২০২৪-এর ভোটে কারচুপির অভিযোগে নানা তথ্য দিয়েছেন। সেবার রাত ২টো পর্যন্ত সাড়ে ৩ হাজার বুথে ভোট পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরিসংখ্যান দেন, রাত ১১টা ৪৫ থেকে মধ্যরাত ২টো পর্যন্ত পড়েছে মোট ভোটের ৪.১৬ শতাংশ। রাত ৮টা থেকে রাত ২টো পর্যন্ত প্রায় ৫২ লক্ষ ভোট পড়ার দাবিও করেন তিনি। শুধুমাত্র মাঝরাতের পর ১৭ লাখেরও বেশি ভোট পড়েছে। তিনি জানান, সব চেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, মধ্যরাত পেরনোর পর প্রতি ২০ সেকেন্ডে একটি করে ভোট পড়েছে। পরাকলা প্রশ্ন করেন, ইভিএম রিসেট হতে ১৪ সেকেন্ড সময় লাগলে কী করে মাত্র ৬ সেকেন্ডে ভোট পড়ল। বাস্তবে কি একজন ভোটার ওইটুকু সময়ের মধ্যে বুথে ঢুকে ভোট দিয়ে বেরতে পারেন। রাত ৮টার পর অস্বাভাবিক কিছু ঘটেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাত ১১টা ৪৫ থেকে মধ্যরাত ২টো পর্যন্ত পড়েছে মোট ভোটের ৪.১৬ শতাংশ। রাত ৮টা থেকে রাত ২টো পর্যন্ত প্রায় ৫২ লক্ষ ভোট পড়ার দাবিও করেন তিনি। শুধুমাত্র মাঝরাতের পর ১৭ লাখেরও বেশি ভোট পড়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে দেশের শীর্ষ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ দেশের ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, কেন প্রতিটি বুথে পড়া ভোটের তথ্য সম্বলিত ১৭সি ফর্ম প্রকাশ্যে আনা হয়নি। পাশাপাশি মেশিনে যাতে পড়া যায়, সেই ফরম্যাটে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এসওয়াই কুরেইশি ফর্ম ১৭সি, ফর্ম ২০ সমেত যাবতীয় নির্বাচনী রেকর্ডের অডিট চান। তিনি জানতে চান, যদি ফর্ম ১৭সি সই করে বুথ স্তরেই সিল করে দেওয়া হয়, তা হলে কেন পরে তথ্যে গরমিল ধরা পড়ে। কুরেইশি ভোটের দিনই ভোট পড়ার চূড়ান্ত শতাংশের হার ও বুথ স্তরের পরিসংখ্যান বের করার প্রস্তুব দেন।
