কেরলে কংগ্রেস ভিডি সতীশনকে মুখ্যমন্ত্রী বাছায় উল্লসিত জোট শরিক ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ। আইইউএমএলের বিজয় মিছিলে উসকানিমূলক স্লোগানের অভিযোগ উঠল। বৃহস্পতিবার সতীশনের নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা হতেই ইডুব্ধি জেলায় রাস্তায় নামে লিগ কর্মীরা। সেখানে স্লোগান ওঠে, কেরল ভূমে লিগই আইন ঠিক করে! সতীশনের নামেও স্লোগান ওঠে। নিশানা করা হয় রাজ্যের কয়েকটি সম্প্রদায়ের নেতাদেরও।
সরাসরি নায়ার সার্ভিস সোসাইটি প্রধান সুকুমারণ নায়ার, শ্রী নারায়ণ ধর্ম পরিপালনা (এসএনডিপি) যোগম সাধারণ সম্পাদক ভেল্লাপল্লি নাটেশনকে আক্রমণ করা হয় বলেও অভিযোগ। ১৪০ সদস্যবিশিষ্ট কেরল বিধানসভায় ২২টি আসনে জিতে এখন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক মুসলিম লিগ। মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে সতীশন, কে সি বেণুগোপাল ও রমেশ চেন্নিথালার লড়াইয়ে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কঠিন সমস্যায় পড়লেও লিগ শুরু থেকেই সতীশনের হয়ে ওকালতি করে। কিন্তু নায়ার সার্ভিস সোসাইটি ও এসএনডিপি নেতৃত্বের প্রথম পছন্দের তালিকায় ছিলেন না সতীশন। সম্ভবত, এহেন বিরোধেরই প্রতিফলন ঘটেছে লিগের আচরণে। লিগ নেতা-কর্মীদের বলতে শোনা যায়, ভেল্লাপল্লি কে? কে এই সুকুমারণ। নাটেশনের নামেও গালিগালাজ করে তারা। ভোটপ্রচারের সময় লিগকে আক্রমণ করেছিলেন তিনি। মিছিলে এও শোনা যায়, 'অস্তিত্ব-আত্মমর্যাদা কারও কাছে বন্ধক রাখা যায় না।'
এসবের মধ্যে আবার কেরলে কংগ্রেসের মন্ত্রক বণ্টন প্রায় চূড়ান্ত। ওই মন্ত্রিসভাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে লিগ। শোনা যাচ্ছে, নতুন মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসের সদস্য থাকবেন ১১ জন। আর পাঁচজন মন্ত্রী থাকবেন লিগের। অর্থাৎ মন্ত্রিসভাতেও গুরুত্বপূর্ণ লিগই।
সিপিএম, বিজেপি বারবার বলেছে, কেরলে কংগ্রেস মুসলিম লিগকে সমঝে চলে, এমনকী তাদের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডাই অনুসরণ করে। এদিকে আমরাই আইন ঠিক করে দিই-লিগের এহেন স্লোগানে বিতর্ক ঘনিয়ে ওঠায় মুসলিম ইউথ লিগ তাদের ইডুক্কি জেলা কমিটিকে সাসপেন্ড করেছে বলে শোনা যাচ্ছে।
