প্রতিশ্রুতি দিয়েও করেননি বিয়ে! যুবতীকে শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা! উত্তরপ্রদেশের পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে আগ্রায় বোনের আবাসনে আত্মঘাতী বিবাহবিছিন্না মহিলা। ঘটনার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
মৃত মহিলা উত্তরপ্রদেশেরই বাসিন্দা। বছর ৬ আগে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের এক সন্তানও রয়েছে। কিন্তু সেই বিয়ে বেশিদিন টেকেনি। সন্তানও রয়েছে তাঁর প্রাক্তন স্বামীর কাছে। এরপর বছর দুয়েক আগে ফ্যাশনের ডিগ্রি কোর্স করা যুবতীর সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে পুলিশকর্মীর পরিচয় হয়। ক্রমেই তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একে অপরের প্রেমের তাঁরা। জানা গিয়েছে, পুলিশকর্মী যুবতীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়।
সব কিছুই ঠিক চলছিল। কিন্তু হঠাৎ বিয়েতে বেঁকে বসেন অভিযুক্ত পুলিশকর্মী। অন্য মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। যুবতীর ঘনিষ্ঠসূত্রে জানা গিয়েছে, এতে ভেঙে পড়েন যুবতী। এমনকী তাঁর পরিবারের সদস্যরাও তাঁকে অপমান করেন বলে অভিযোগ।
বুধবার যুবতী আগ্রাতে তাঁর বোনের আবাসনে আসেন। অন্য একটি ঘরে চলে যান তিনি। তাঁর বোন জিমে চলে যান। মৃতার বোন বাড়ি ফিরে যুবতীকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনও সাড়া পাননি। তবে ঘর থেকে খুব জোরে গান চলার শব্দ পান। ভাবেন দিদি গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছেন। কিন্তু রাত হয়ে গেলেও যুবতী বাইরে না আসায় সন্দেহ হয় বোনের। তিনি জানলা দিয়ে উঁকি মারতেই দেখেন সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলছেন যুবতী।
খবর দেওয়া পুলিশে। তদন্তকারীরা মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। পাশাপাশি তল্লাশি শুরু করেন ঘরে। দেখা হয় যুবতীর মোবাইল ফোন। মৃত্যুর আগে যুবতীর ২ মিনিটের ভিডিও পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেখানেই যুবতী পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন। ভিডিওতে যুবতী দাবি করেছেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী পুলিশ কনস্টেবল।
এরপরই অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া ও আত্মহত্যায় প্ররোচনায় দেওয়ার মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি যুবতীর উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও ভিডিও ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে।
