সোনম ওয়াংচুককে অনশন মঞ্চ থেকে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এবার অনশনে বসেছেন ককরোচ পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। শনিবার যন্তর মন্তরে অনশনরত দীপকের মুখে কালি ছুড়ে মারলেন এক মহিলা। এই ঘটনা রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। শুরু হয় তুমুল হট্টগোল। যদিও এই ঘটনায় 'গান্ধীপন্থা' নিয়ে অভিজিৎ দীপকে বললেন, 'নীল রং তাঁর ভীষণ প্রিয়।' একইসঙ্গে 'জয় ভীম' স্লোগান দেন দীপক।
শনিবার সকালে যন্তর মন্তরে অনশন মঞ্চে পর্দা ঢেকে সোনম ওয়াংচুককে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের এহেন আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে গোটা দেশ। এই ইস্যুতেই মঞ্চের সামনে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন অভিজিৎ দীপকে। ঠিক সেই সময় তাঁর সামনে এগিয়ে এসে তাঁকে কালি ছুড়ে মারেন মারেন এক মহিলা। দীপকের মুখ কালিতে মাখামাখি হয়ে যায়। কাছে থাকা অন্যান্য আন্দোলনকারীরা সঙ্গে সঙ্গে ওই মহিলাকে ধরে ফেলেন। ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের হাতে যাতে মহিলা আক্রান্ত না হন তার জন্য কালি খেয়েও ময়দানে নামেন খোদ দীপকে। তার মধ্যেই ধস্তাধস্তি ও জুতো ছোড়া হয় মহিলার উদ্দেশে।
ওই মহিলার পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মীরা অবশ্য দ্রুত মহিলাকে আটক করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এখনও ওই মহিলার পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মীরা অবশ্য দ্রুত মহিলাকে আটক করে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে ফের নিজের অনশনমঞ্চে ফিরে আসেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা দীপকে। এবং সোশাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও নিজেই শেয়ার করেন। গোটা ঘটনায় রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ না করে সোশাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, 'নীল রং আমার ভীষণ প্রিয়, জয় ভীম।'
উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ-সহ পাঁচ দাবিতে গত ২০ দিন ধরে যন্তর-মন্তরে অনশন করছিলেন সোনম। শুক্রবারই ওয়াংচুক বলেন, ”ডাক্তারি পরীক্ষা অনুযায়ী আমারর শরীর দুর্বল ঠিকই, কিন্তু মৃত্যু হওয়ার মতো অবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। দেশবাসীর কাছে আমার আর্জি আগামী ২০ জুলাই সংসদ অভিযান সফল করুন। যদি এই অভিযান সফল হয় তবেই আমি এই অনশন ভাঙতে পারব।” কিন্তু তার আগেই শনিবার সকালে তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে দিল্লি পুলিশ। বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে ‘প্রয়োজনীয় চিকিৎসার’ জন্য ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পর পুলিশ যন্তর মন্তরে সমবেত বিক্ষোভকারীদের কাছে আহ্বান জানায় যেন তারা দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভস্থল ত্যাগ করেন।
