বারবার ‘বিদ্রোহী’দের নিশানায় তিনি। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের গুটিকয়েক সেনার মাঝেও তিনি সমালোচিত। কেউ কেউ তো বলেই দিয়েছেন, অভিষেক থাকলে তাঁরা দলে থাকবে না। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরকে বড়সড় চ্যালেঞ্জ করলেন ‘কালীঘাট’ শিবিরের তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শনিবার বাড়ির সামনে থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন, ‘‘যদি ওদের কেউ ফিরে আসে, আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব। মিলিয়ে নিন, একজনও আসবে না।” সমালোচনা করলেন ঋতব্রত শিবিরকেও।
ছাব্বিশের ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর থেকে লাগাতার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন দলের নেতারা। অনেকের অভিযোগ, আইপ্যাকের কথা শুনে বেশ কয়েকটি আসন বিক্রি করেছেন অভিষেক। সেসব আসনে গোহারা হেরেছেন তৃণমূলের প্রার্থীরা। তার উপর আরও সমালোচনা, দলের হারের পর কর্মীদের উপর রাজনৈতিক হামলার অভিযোগ পেয়েও 'নিষ্ক্রিয়' দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। মমতার ভাইপো-স্নেহ মেনে নিতে না পেরে তৃণমূলনেত্রীর সঙ্গত্যাগ করেছেন অনেকে। সাংসদদের একটা দল এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, পরিষদীয় দলের বড় অংশ ভেঙে 'ঋতব্রত' শিবিরে। সকলের মুখে অভিষেকেরই সমালোচনা।
মমতাকে ছেড়ে যাওয়া জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বললেন, ‘‘যদি ওদের কেউ ফিরে আসে, আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব। মিলিয়ে নিন, একজনও আসবে না।এতদিনে ওদের সবার জনতার কথা মনে পড়ল? এই ফলাফলের জন্য দলকে দায়ী করছেন, তার কারণ কী?”
এই পরিস্থিতিতে শনিবার আমতলায় তাঁর পার্টি অফিসে বুলডোজার চলার পর প্রকাশ্যে এলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। কালীঘাটের বাড়ির সামনে থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এনিয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করলেন। বললেন, ‘‘পার্টি অফিস মন্দিরের মতো, এই জায়গা কিনে পার্টি অফিস হয়েছে। সমস্ত নথিপত্র আছে। সব আগে হাই কোর্টে জমা দেব। আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্টে যাব এটা নিয়ে। শেষ দেখে ছাড়ব।''
একইসঙ্গে দলে মুষলপর্ব নিয়েও তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল। মমতাকে ছেড়ে যাওয়া জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বললেন, ‘‘যদি ওদের কেউ ফিরে আসে, আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব। মিলিয়ে নিন, একজনও আসবে না।এতদিনে ওদের সবার জনতার কথা মনে পড়ল? এই ফলাফলের জন্য দলকে দায়ী করছেন, তার কারণ কী?” এদিন অবশ্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলত্যাগীদের নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি বার্তা দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘ওদের একজনকেও ফেরানো হলে, আমি দল ছাড়ব।'' রাজনৈতিক মহলের মত, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডল-সহ দলের একাধিক পুরনো নেতাদের সরাসরি যে বক্তব্য - অভিষেক দলে থাকলে তাঁরা নেই, সেই বক্তব্যকেই কার্যত পালটা আক্রমণ করলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
