পর্যাপ্ত সমর্থন না মেলায় লোকসভায় পাশ হল না মহিলা সংরক্ষণ ও লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। দু'দিন ধরে আলোচনার পর শুক্রবার বিলটি (Women Reservation Bill) পেশ হলে বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮টি। অন্যদিকে বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩০টি। ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন ৫২৮ জন সাংসদ। বিলটি পাশ করাতে প্রয়োজন ছিল দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন অর্থাৎ ৩৫২টি ভোটের।
তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে সক্রিয় ছিল যার প্রথমটি ছিল, লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ। এই বিলের নাম ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। দ্বিতীয়টি ছিল, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল। এবং তৃতীয়টি ছিল কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। তবে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, মহিলা সংরক্ষণের মোড়কে ভারতের ভোট মানচিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে মোদি সরকার। বিলটির বিরোধিতায় একজোট হয় বিরোধী শিবির। ভোটাভুটি চলাকালীন বিলটির পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি। দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় শেষ পর্যন্ত পাশ করানো যায়নি বিলটি।
বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮টি। অন্যদিকে বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩০টি। ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন ৫২৮ জন সাংসদ। বিলটি পাশ করাতে প্রয়োজন ছিল দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন অর্থাৎ ৩৫২টি ভোটের।
বিল যে পাশ হবে না সে আভাস আগেই পেয়েছিল সরকার পক্ষ। শেষ বক্তা অমিত শাহ বিরোধীদের মহিলা বিরোধী বলে তোপ দাগার পাশাপাশি বলেছিলেন, "আমাদের উপর ভরসা রাখুন। বিল পাশ করতে দিন।" তবে বিলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, "এই বিল ছিল মহিলাদের উন্নয়ন বিল। যা হল সেটা নারী শক্তির বিরোধিতা।" অন্যদিকে পালটা কংগ্রেস সাংসদ প্রয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, "যাদের গায়ে হাতরাসের দাগ লেগে রয়েছে তাদের থেকে মহিলাদের উন্নয়নের কথা শুনব না।"
পাশাপাশি এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, 'লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ না হওয়ায় বিজেপির অস্বস্তি এখন প্রকাশ্যে। মহিলা সংরক্ষণ বিলটিতে সংশোধনী এনে এদিন পেশ করা হলেও ২০২৩ সালে তা সর্বসম্মতিতে পাশ হয়েছিল। এনডিএ সরকার যদি সত্যিই মহিলাদের প্রতি আন্তরিক হয় তবে তাদের উচিত এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের সেই বিলটি কার্যকর করা। তৃণমূল এই বিষয়টিকে সমর্থন করে বর্তমানে সংসদে তৃণমূলের মহিলা প্রতিনিধি ৪১ শতাংশের বেশি।' পাশাপাশি লেখেন, 'সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল, ২০২৬ ইন্ডিয়া জোট দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। লোকসভার আসন বাড়িয়ে ৮৫০ করা এবং ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস চেষ্টার ন্যায্যতা ও ভারসাম্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।' সবশেষে লেখেন, 'এনডিএ সরকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে। তাদের তৈরি করা ভ্রম এখন মানুষের কাছে স্পষ্ট।'
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল সংসদে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে আরও বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র আর জনগণনার অপেক্ষা করছে না। মোদি সরকার চাইছে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। সেই পুনর্বিন্যাসের ভিত্তিতেই মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষিত করা হবে। সেটারই বিরোধিতায় একজোট ইন্ডিয়া শিবির।
