মোদি সরকারের যাবতীয় প্রচেষ্টা ব্যর্থ! পর্যাপ্ত সমর্থন না মেলায় লোকসভায় পাশ হল না মহিলা সংরক্ষণ ও লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। কেন্দ্রীয় সরকার মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশের মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ণকেই রুখতে চাইছে। সেই ইঙ্গিত করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিলের বিরোধিতায় সবর হয়েছিলেন তিনি। সংসদের ভিতরে ও বাইরে তৃণমূলের সাংসদরা সবর হয়েছিলেন। এদিন মহিলা সংরক্ষণ বিল ফেল করতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন অখিলেশ যাদব। 'দিদি'কে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
সূত্রের দাবি, দীর্ঘ এই আলোচনায় দুই নেতার মধ্যে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও কথা হয়। সব সাংসদ উপস্থিত থাকলে বিরোধীদের ভোটসংখ্যা ২৫০-র গণ্ডি ছাড়িয়ে যেত বলেও উল্লেখ করেন অভিষেক। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে হাওয়া ঘুরতে শুরু করেছে।” একই সঙ্গে উঠে আসে ‘ক্রস ভোটিং' প্রসঙ্গও। অতীতে বিরোধী শিবির থেকেই বিজেপির পক্ষে ক্রস ভোটিংয়ের নজির থাকলেও, এখন সেই প্রবণতা উলটো দিকে ঘুরতে পারে বলেই আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ফোনালাপ কেবল সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং বৃহত্তর বিরোধী ঐক্যের ভিত আরও মজবুত করার ইঙ্গিত। পাশাপাশি, সংসদের সংখ্যার লড়াইয়ে ভবিষ্যতে আরও চমক থাকতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন ভালো সমন্বয় সাধন করেন। সেই বিষয়ে কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে ডেরেককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দু'দিন ধরে আলোচনার পর শুক্রবার বিলটি পেশ হলে বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮টি। অন্যদিকে বিপক্ষে ভোট পড়ে ২৩০টি। ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন ৫২৮ জন সাংসদ। বিলটি পাশ করাতে প্রয়োজন ছিল দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন অর্থাৎ ৩৫২টি ভোটের।
তিনদিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে সক্রিয় ছিল যার প্রথমটি ছিল, লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ। এই বিলের নাম ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। ভোটাভুটি চলাকালীন বিলটির পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি। দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় শেষ পর্যন্ত পাশ করানো যায়নি বিলটি। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল সংসদে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে আরও বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র আর জনগণনার অপেক্ষা করছে না।
