চলতি সপ্তাহে সংসদে পেশ হতে চলেছে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ সংশোধনী বিল। সোমবার এই বিলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গলায়। এদিন দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী জানালেন, ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর জেরে দেশের মহিলারা বিশেষ মর্যাদা পেতে চলেছেন। নয়া বিলকে সমর্থনের জন্য বিরোধীদেরও প্রশংসা করলেন মোদি।
সোমবার দিল্লিতে নারী শক্তি বন্দন সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''আমি এখানে কাউকে উপদেশ দিতে আসিনি। এসেছি শুধুমাত্র মহিলাদের আশীর্বাদ নিতে। গণতান্ত্রিক কাঠামোতে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কয়েক দশক ধরে সকলেই অনুভব করছেন। এই আলোচনার পর্যায়েই চার দশক কেটে গিয়েছে। বহু রাজনৈতিক দল ও বহু প্রজন্মের প্রচেষ্টা এর সঙ্গে জড়িত। প্রতিটি দলই এই ধারনাকে নিজস্ব পন্থায় এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। আমি মনে করি মহিলা সংরক্ষণের লক্ষ্যে আমাদের এই উদ্যোগ একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।''
বিলকে সমর্থনের জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "২০২৩ সালে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম আনা হয়েছিল। সেই সময় সব রাজনৈতিক দল পূর্ণ সমর্থন জানায়।"
এই বিলকে সমর্থনের জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Narendra Modi)। তিনি বলেন, "২০২৩ সালে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম আনা হয়েছিল। সেই সময় সব রাজনৈতিক দল পূর্ণ সমর্থন জানায়। ২০২৯ সালের মধ্যে এটি কার্যকর করার দাবি উঠেছিল সকলের তরফে। বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই দাবিতে সোচ্চার ছিল।" এরপরই প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমাদের লক্ষ্য হল, আলোচনা সহযোগিতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই কাজটি সম্পন্ন করা। আমি বিশ্বাস করি অতীতে যেভাবে আইনটি পাশ হয়ে সংসদের মর্যাদা বাড়িয়েছিল, এবারও সকলের সম্মতিতে এই সংশোধনী বিল পাশ হবে, এবং সংসদের মর্যাদা নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে।"
উল্লেখ্য, এই বিল (Women Reservation Bill) পাশের লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহের ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে সংসদে। ২০২৩ সালে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বিল পাশ হয়েছিল সংসদে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এখন এই বিলে সংশোধনী আনতে চাইছে কেন্দ্র। ২০২৩ সালে পাশ হওয়া বিলে উল্লেখ ছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু এখন কেন্দ্র চাইছে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। এই সংশোধনী নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সোনিয়া।
তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা ছিল। সেটাকে ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে চলেছে মোদি সরকার। অতীতে জনগণনার ভিত্তিতেই আসন পুনর্বিন্যাস হয়ে এসেছে। কিন্তু মোদি সরকার চাইছে, জনগণনার আগেই আসন পুনর্বিন্যাস হোক। জাতিগত গণনার কোনও প্রভাব যেন আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে না পড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে আদমসুমারির রিপোর্ট প্রকাশ আরও পিছিয়ে দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।’ সোনিয়ার আশঙ্কা, এইভাবে আসন পুনর্বিন্যাস হলে বহু রাজ্যের গুরুত্ব হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া বিল পাশ করাতে কেন্দ্রের ‘হুড়োহুড়ি’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সোনিয়া।
