সিকিমের নামচিতে নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গের মাটি ধসে ৮ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ১২ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও একাধিক শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে খবর। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে সেখানে। আটকে বাংলার শ্রমজীবীও! সিকিমের দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মধ্যে বাংলার জলপাইগুড়ির বাসিন্দা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও খবর। সামাজিক মাধ্যমে সিকিমের দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু।
সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, "সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং-এর ঝোলুঙ্গিতে অবস্থিত এনএইচপিস-র তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গ ধসে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনায় আমি গভীরভাবে ব্যথিত ও উদ্বিগ্ন। পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী প্রেম সিং তামাং-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছি। পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছি। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মধ্যে কারও কারও আমাদের জলপাইগুড়ি জেলার বাসিন্দা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।" তাৎক্ষণিক সহায়তা ও ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করতে মন্ত্রী বিশাল লামা এবং দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রায় ২৫০ মিটার দীর্ঘ টানেলটি সিকিমের প্রথম ডাবল-লেন টানেল। পূর্ব সিকিমের পকিয়ং জেলার নামচি ও রংপো সংলগ্ন মামরিং এলাকায় ওই টানেল তৈরির কাজ চলছে। এটি ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের তিস্তা স্টেজ-৪ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাছাকাছি। এটি সিকিমের সঙ্গে নাথু-লা পাসের সংযোগকারী কৌশলগত পথ। টানেলটি চালু হলে গ্যাংটকমুখী পর্যটক এবং নাথু-লা পাসগামী সেনাবাহিনীর যানবাহনগুলির সহজে যাতায়াত করতে পারবে। আর সেই টানেল তৈরি হওয়ার আগেই ঘটে গেল এমন দুর্ঘটনা। অতি বৃষ্টিতে ভূমিধস নামল নির্মীয়মাণ টানেলে। ভিতরে আটকে রইলের বহু শ্রমিক। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১২ জনকে। তবে ভিতরে এখনও ১৮ বা তার বেশি মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। সিকিমের পাকইয়ংয়ের সামারদুং (ঝোলুঙ্গে) এলাকার ঘটনা।
