আনন্দপুরের অভিজাত বহুতলে যুবতীকে ধর্ষণের চেষ্টা, ছুরির আঘাত! ঘটনার পরই কলকাতা থেকে বিহারে পালানোর চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত। তবে লাভ হল না। দুর্গাপুরে চলন্ত ট্রেন থেকেই আরপিএফের সাহায্যে অভিযুক্ত মন্টু কুমারকে গ্রেপ্তার করল লালবাজারের গোয়েন্দারা।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার বিকেল তিনটে নাগাদ ঘটেছে এই ঘটনাটি। অভিযুক্ত যুবক পূর্ব কলকাতার আনন্দপুর থানা এলাকার একটি অভিজাত বহুতলের ফ্ল্যাটে রাঁধুনির কাজ করত। সম্প্রতি ওই ফ্ল্যাটে কাজ করতে আসেন অভিযোগকারিণী ওই যুবতী। তিনি আসলে দক্ষিণ সুন্দরবন এলাকা বাসিন্দা। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে বিশেষ কেউ ছিলেন না। যুবতী রান্নাঘরে কিছু কাজ করছিলেন। তখনই কাজের অছিলায় রাঁধুনি মন্টু কুমার সেখানে যায়। সে হঠাৎই ওই পরিচারিকার উপর পিছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ওই অভিযুক্ত। যুবতী সেই সময় মন্টুকে ধাক্কা দেন। তারই শোধ তুলতে রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে এসে তাঁর উপর হামলা চালায় অভিযুক্ত। পরিচারিকা রক্তাক্ত অবস্থায় রান্নাঘরে পড়ে ছটফট করতে থাকেন। মন্টু ফ্ল্যাট ছেড়ে পালিয়ে যায়। এরপরই ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা শব্দ পেয়ে রান্নাঘরে গিয়ে পরিচারিকাকে ওই অবস্থায় দেখেন। যুবতীকে তড়িঘড়ি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ দায়ের করা হয় আনন্দপুর থানায়।
সঙ্গে সঙ্গে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের গুন্ডাদমন শাখা তদন্ত শুরু করে। জানতে পারে মন্টু আসলে বিহারের বাসিন্দা। দেখা যায়, মন্টুর মোবাইল বন্ধ। পুলিশ বিকেলের পর থেকে কোন কোন ট্রেন বিহারের উপর দিয়ে যাচ্ছে তা দেখে নেয়। এরপর মন্টুর ছবি জোগাড় করে তা আরপিএফ ও রেল পুলিশকে দেন গোয়েন্দারা। নিজেরাও খোঁজখবর নিতে থাকেন। লালবাজারের গোয়েন্দা ও আরপিএফের টিম সেইমতো সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে হাওড়া থেকে ছাড়া অমৃতসর মেলে ওঠে। রাত প্রায় ন’টা নাগাদ ট্রেনটি দুর্গাপুরে ঢোকার সময় দেখা যায় মন্টু দরজার কাছে। দুর্গাপুরে নেমে ‘কাটা রুটে’ অন্য ট্রেনে উঠে পালানোর ছক কষেছিল সে। তার আগেই মন্টু কুমারকে পুলিশ ও আরপিএফ ধরে ফেলে।
