সোনারপুরে তুমুল হেনস্তার শিকার হয়ে কলকাতায় ফেরার পথে সোজা বাইপাসের ধারে বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছে যান অভিষেক। 'চিকিৎসা হচ্ছে না' বলে তড়িঘড়ি তাঁকে নিজের গাড়িতে তুলে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, দ্বিতীয় হাসপাতালও পরীক্ষার পর জানিয়ে দেয়, 'কোনও গুরুতর চোট নেই তাঁর। ভর্তির প্রয়োজন নেই।' পরপর দুটি হাসপাতালই 'ফিট' সার্টিফিকেট দেওয়ায় রাতেই কালীঘাট রোডের বাড়িতে ফেরেন অভিষেক। সেখানেই কার্যত হাসপাতাল পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, গভীর রাত পর্যন্ত অভিষেকের বাড়িতেই ছিলেন মমতাও।
বারবার প্রেসার ওঠা নামা করছে বলেও জানা গিয়েছে। রাতের পর সকালেও একবার অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে তাঁকে। স্যালাইনের ব্যবস্থাও রয়েছে বাড়িতে। আইসিইউ ট্রেনড নার্সের নজরদারিতে রয়েছেন অভিষেক। নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যবেক্ষণ করছেন ডাক্তারও।
সূত্রের খবর, আচমকা ঘিরে ধরে মারধরের ঘটনায় যথেষ্ট উদ্বেগে ছিলেন তিনি। রাতে গা বমি ভাব ছিল। বারবার প্রেসার ওঠা নামা করছে বলেও জানা গিয়েছে। রাতের পর সকালেও একবার অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে তাঁকে। স্যালাইনের ব্যবস্থাও রয়েছে বাড়িতে। আইসিইউ ট্রেনড নার্সের নজরদারিতে রয়েছেন অভিষেক। নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যবেক্ষণ করছেন ডাক্তারও। চিকিৎসক সূত্রের খবর, চোখে পুরনো সমস্যা রয়েছে অভিষেকের। আর গতকালের ঘটনায় তাঁর চশমা ভেঙে যাওয়াতে চোখে নতুন করে কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, সেদিকটিও লক্ষ রাখা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, এখনই অভিষেককে হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। আপাতত কয়েকদিন বাড়িতে চিকিৎসা পরিকাঠামোয় বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গতকালই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের সামনে জানিয়েছিলেন, অভিষেকের খোঁজ নিতে তাঁকে ফোন করেছিলেন রাহুল গান্ধী। অভিষেককে হায়দরাবাদে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার পরামর্শও দিয়েছেন বলে জানান মমতা। তবে সূত্রের খবর, এখনই অভিষেককে হায়দরাবাদে নিয়ে যাওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। আপাতত কয়েকদিন বাড়িতে চিকিৎসা পরিকাঠামোয় বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে শারীরিক পরিস্থিতির উপর নজর রেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেই জানা গিয়েছে। আপাতত অভিষেকের বাড়িতে লোকজন আসার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
জানা গিয়েছে, চিকিৎসকরা তাঁকে বাড়িতে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছে। যেহেতু গতকালের ঘটনা সকলের সামনে স্পষ্ট। তাই তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই আপাতত বাড়ি থেকে না বেরনোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে সোমবারই অভিষেককে ভবানীভবনে তলব করেছে সিআইডি। বিধানসভার জাল সই কাণ্ডে শনিবার দুপুরে প্রথমে তাঁর হরিশ মুখার্জী রোডের বাড়িতে পৌঁছে যান সিআইডি আধিকারিকরা। সেখানে তাঁকে না পেয়ে কালীঘাট রোডের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েই অভিষেকের হাতে নোটিস ধরান তাঁরা। বলা হয়, সোমবার ভবানীভবনে হাজিরা দিতে হবে। তবে এখন যা পরিস্থিতি, তাতে আগামিকাল তিনি সিআইডির ডাকে সাড়া দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জানা গিয়েছে, চিকিৎসকরা তাঁকে বাড়িতে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছে। যেহেতু গতকালের ঘটনা সকলের সামনে স্পষ্ট। তাই তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখেই আপাতত বাড়ি থেকে না বেরনোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এখন দেখার, অভিষেক সুস্থ হতে সিআইডির কাছে আরও বেশকিছুদিন সময় চেয়ে নেন, না কি কালই এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা নিয়ে ভবানীভবনে পৌঁছে যান তৃণমূলের 'সেকেন্ড ইন কমান্ড'?
