shono
Advertisement
Mamata Banerjee

'বেরলেই জনতা মারবে', আতঙ্কে মমতার ডাকেও কালীঘাট-বিমুখ জয়ী তৃণমূল বিধায়করা!

রবিবার বিকেল ৪টেয় কালীঘাটের বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের বৈঠক হওয়ার কথা।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 01:32 PM May 31, 2026Updated: 02:32 PM May 31, 2026

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার পরেরদিনই কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে জয়ী বিধায়কদের বৈঠক হওয়ার কথা। রবিবার বিকেল ৪টেয় সেই বৈঠক। কিন্তু অভিষেকের ঘটনার পর আতঙ্কিত বিধায়করা। বাইরে বেরলেই এভাবে জনরোষ আছড়ে পড়তে পারে - এই আশঙ্কাতেই কাঁটা সকলে! যার জেরে আজ কালীঘাটে মমতার ডাকেও বৈঠকে হাজির হতে নারাজ বহু বিধায়ক। রবিবার সকালে সেকথাই শোনা গেল তাঁদের। ফলে আজ ৮০ তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে কতজন কালীঘাটে হাজির হন,  তা নিয়ে সংশয় বাড়ছে। ৮০ জনের মধ্যে ২৫ জন উপস্থিত থাকলেও তা যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। 

Advertisement

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিধায়কের কথায়, ‘‘শনিবার সোনারপুরে যা ঘটেছে, তা নিন্দনীয়। কিন্তু এই পরিস্থিতির জন্য অভিষেকই দায়ী। আজ দলের ভরাডুবির জন্যও ও দায়ী।'' আরেকজনের মন্তব্য, ‘‘কল্যাণদার সঙ্গেও আজ যা হয়েছে, খুব খারাপ। কিন্তু কল্যাণদার পাশেও দাঁড়াতে পারছি না। কারণ, উনি রাস্তায় নেমে যেমন চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলেছেন এতদিন, তারই প্রতিফলন।'' কেউ কেউ বলছেন, ‘‘চারপাশের যা অবস্থা, বাড়ি থেকে বেরিয়ে কালীঘাট পৌঁছনোর আগে তো পাবলিকের মার খেয়ে হাসপাতালে যেতে হবে। যাবই না মিটিংয়ে।''

শনিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রবিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরপর দু'দিন দুই তৃণমূল সাংসদের উপর যেভাবে জনরোষ আছড়ে পড়ল, তা দেখে আতঙ্কিত তৃণমূলের জয়ী বিধায়করাও। পরিস্থিতি দেখে তাঁদের মনে ভয় দানা বেঁধেছে, বেরলেই হয়ত এভাবে জনতার হাতে মার খেতে হবে। রবিবার তাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকেও যেতে নারাজ অনেকে। হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনার অধিকাংশ বিধায়কই এদিনের বৈঠকে যোগ দিতে আসবেন না বলে খবর। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দলনেত্রী উপরই অনেকে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।

সূত্রের আরও খবর, অভিষেক-কল্যাণের উপর হামলার ঘটনায় ব্যথিত হলেও সমবেদনা জানাতে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে দ্বিধায় অনেক বিধায়ক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিধায়কের কথায়, ‘‘শনিবার সোনারপুরে যা ঘটেছে, তা নিন্দনীয়। কিন্তু এই পরিস্থিতির জন্য অভিষেকই দায়ী। আজ দলের ভরাডুবির জন্যও ও দায়ী।'' আরেকজনের মন্তব্য, ‘‘কল্যাণদার সঙ্গেও আজ যা হয়েছে, খুব খারাপ। কিন্তু কল্যাণদার পাশেও দাঁড়াতে পারছি না। কারণ, উনি রাস্তায় নেমে যেমন চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলেছেন এতদিন, তারই প্রতিফলন।'' কেউ কেউ বলছেন, ‘‘চারপাশের যা অবস্থা, বাড়ি থেকে বেরিয়ে কালীঘাট পৌঁছনোর আগে তো পাবলিকের মার খেয়ে হাসপাতালে যেতে হবে। যাবই না মিটিংয়ে।'' আরেক বিধায়কের কথায়, ‘‘আমি কখনও 'দাদা', 'বস' বলে কারও পিছনে দৌড়ইনি, কেক কাটার সেলিব্রেশনেও যাইনি। আমার শিক্ষাদীক্ষা আছে, সেইমতো এতদিন দল করেছি। আমি আজও যাব না।''

এই মুহূর্তে বিধানসভায় তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০। বিরোধী দলের তকমা ধরে রাখতে হলে ৩০ আসন রক্ষা জরুরি। কিন্তু যেভাবে একের পর এক বিধায়ক দলীয় সুপ্রিমোর বৈঠকে যেতে পিছু হটছেন, তাতে আদৌ কতজন ঘাসফুল শিবিরের বিধায়ক হিসেবে থাকবেন, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এছাড়া সই-জাল কাণ্ড নিয়ে একের পর এক তৃণমূল বিধায়ককে সিআইডি-র নোটিসও তাঁদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করেছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement