তৃণমূলের 'বিদ্রোহী' শিবিরে বাড়ল আরও বিধায়কের সংখ্যা। আজ বুধবার বিধানসভার বাইরে এমনই দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৫৮ থেকে বেড়ে সংখ্যাটা ৬৪ হয়েছে। এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে। তৃণমূলে এই ভাঙনের মাঝেই দিল্লিতে কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে নৈকট্য বাড়ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে হয়েছে একাধিক বৈঠক। এর মাঝেই মমতার কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রত বলেন, "আমরাই তৃণমূল। আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যাচ্ছি না।"
তৃণমূলের পরিষদীয় দলের পাশাপাশি সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরেছে। লোকসভায় কাকলি ঘোষদস্তিদারের নেতৃত্ব ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ শিবিরে যোগ দিতে চেয়ে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি লিখেছেন। অন্যদিকে রাজ্যসভাতেও ২ তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় ও সুস্মিতা দেব ইস্তফা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে সাঁড়াশি চাপে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তাঁরা দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধি-সহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে লাগাতার বৈঠক করেছেন। সূত্র মারফত খবর, মমতাকে কংগ্রেসে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা কংগ্রেসে যোগ দেবেন কি না তা নিয়ে জল্পনার মাঝেই রাজ্যে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, তাঁরাই তৃণমূল। কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁরা মিশে যাচ্ছেন না।
লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে সাংসদদের তালিকা যে আরও বাড়বে তা আগেই জানিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এই আবহে শোনা যাচ্ছে, বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন মালা রায় ও সায়নী ঘোষ। কয়েকদিন আগেই পুরনো সব কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গড়েছে তৃণমূল। সেই কমিটিতে মালা রায় ও সায়নী ঘোষ ছিলেন। তাঁরাও বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন বলে জল্পনা ছড়াতেই অভিষেকের সংগঠন নিয়ে কটাক্ষ করেন ঋতব্রত। ফের একবার তিনি বলেন, "অভিষেকের সং আছে, গঠন নেই।"
বিরোধী দলনেতা বলেন, "সংখ্যাটা ৬৪ পেরিয়ে গিয়েছে। আগামীকাল হয়তো সংখ্যাটা ৬৫ হয়ে যাবে। এই ভাঙন চলতে থাকবে। কে কোথায় কার সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে বৈঠক করছে তা নিয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না। আমরাই তৃণমূল। আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে মিশছি না।"
