বাবুল হক, মালদহ: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) মুখে বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি করে সম্প্রীতি ভঙ্গের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার মালদহে পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে সভায় এমনই অভিযোগ তুলে সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে কংগ্রেস ও নাম না করে তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল করা হুমায়ুন কবীরকেও আক্রমণ করলেন তিনি। তবে এদিন কলকাতায় আই-প্যাকের দপ্তর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযান (ED Raid at I-PAC Office) ও তৎপরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য না করলেও রাজনৈতিক বার্তায় স্পষ্ট আক্রমণ শানালেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিষেকের এই প্রসঙ্গে নীরবতাও একটি কৌশল।
আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডি হানার বিরোধিতায় সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলও তাঁর নির্দেশে নানা কর্মসূচি নিয়েছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, অভিষেক পূর্বনির্ধারিত একটি ইস্যুতে কর্মসূচি নিয়ে জেলায় গিয়েছেন, সেই বিষয়টি যাতে গুরুত্বহীন হয়ে না পড়ে সে কারণেই এদিন আই-প্যাক নিয়ে মন্তব্য থেকে বিরত থেকেছেন তিনি। তবে অভিষেক এদিন কোনও মন্তব্য না করলেও, পরে প্রতিক্রিয়া দেবেন বলেও মনে করা হচ্ছে। বস্তুত, আইপ্যাকের দপ্তরে বা প্রতীকের বাড়িতে ইডির তল্লাশি নিয়ে অভিষেক কিছু বলেন কি না, সে দিকে নজর ছিল সকলের।
প্রসঙ্গত, প্রতীক জৈনের লিঙ্কডইন প্রোফাইল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে বম্বের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকে মেটালার্জিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেটেরিয়াল সায়েন্স নিয়ে বি.টেক করেছেন তিনি। বি টেক করার পর কিছুদিন অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কে ইন্টার্নশিপ করেন তিনি। এরপরে ২০১২ সালে তথ্য ও প্রযুক্তি সংস্থা ডেলয়েটে কাজ শুরু করেন। সেখানে ১৫ মাস কাজ করেন তিনি। এরপরই রাজনীতি নিয়ে কাজ শুরু। ২০১৩ সালে সিটিজেনস ফর অ্যাকাউন্টেবল গভর্নেন্স নামের একটি সংস্থা তৈরি করেন তিনি। ২০১৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত কাজ করেন। সংস্থাটি কাজ করত গুজরাটে। সেসময় প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। এই প্রশান্ত কিশোরকে মুখ করেই ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা আইপ্যাক তৈরি করেন প্রতীক। সরকারিভাবে প্রতীকের সঙ্গে আই-প্যাকের সহ প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্দেল ও ঋষিরাজ সিং। ২০১৫ থেকেই প্রতীকের সংস্থা আই-প্যাক বিভিন্ন রাজ্যে ভোটকুশলী হিসাবে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে বিহার, পাঞ্জাব, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং বাংলা।
