শুধু মালদহ-ইটাহার নয়, নিউটাউনেরও ত্রাস ছিলেন কালিয়াচক কাণ্ডে ধৃত মোফাক্কেরুল ইসলাম। জানা যাচ্ছে, নিউটাউনের নজরুল তীর্থ এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। তারপর নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তা দখল করে নেন তিনি। এলাকাবাসী সবটা জানলেও ভয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন বলেই খবর। তবে মোফাক্কেরুল গ্রেপ্তার হতেই একে একে মুখ খুলছেন সকলে।
২০১৪ সালে নজরুল তীর্থের পিছনে পারুলিয়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে আরও কয়েকটি পরিবার ভাড়া থাকত। অভিযোগ, মালিক দম্পতির মৃত্যু হতেই দাপট দেখাতে শুরু করেন মোফাক্কেরুল। সহ-আবাসিকদের প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা বাড়ি ছাড়েন।
নাম বাদ নিয়ে দিন কয়েক আগে উত্তাল হয়ে উঠেছিল মালদহের কালিয়াচক। জল গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শুক্রবার সকালে ঘটনার মুল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপরই তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। জানা যাচ্ছে, শুধু নিজের গড় ইটাহার নয়, কলকাতাতেও রীতিমতো দাপট দেখাতেন মোফাক্কেরুল। ২০১৪ সালে নজরুল তীর্থের পিছনে পারুলিয়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। সেখানে আরও কয়েকটি পরিবার ভাড়া থাকত। অভিযোগ, মালিক দম্পতির মৃত্যু হতেই দাপট দেখাতে শুরু করেন মোফাক্কেরুল। সহ-আবাসিকদের প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে তাঁরা বাড়ি ছাড়েন। এরপর দেড় কাঠা জমিতে থাকা তিনতলা বাড়ি দখল করে নেন মোফাক্কেরুল। প্রতিবেশীরা সবটা জানলেও প্রতিবাদ জানানোর সাহস দেখাতে পারেননি।
উল্লেখ্য, উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের পোরসা হাটখোলার বাসিন্দা মোফাক্কেরুল ইসলাম (Mofakkerul Islam)। বয়স ৪০ বছর। পেশায় আইনজীবী। রায়গঞ্জ আদলতে বেশ কিছুদিন প্র্যাকটিস করেছেন তিনি। কলকাতা হাই কোর্টেও একাধিক মামলা লড়েছেন তিনি। কাজের সূত্রে ঠিকানা তৈরি করেছিলেন কলকাতায়। শহরে তাঁর বাড়ি রয়েছে। আইনচর্চার পাশাপাশি রাজনীতিতেও আকর্ষণ ছিল মোফাক্কেরুলের। ২০২১ সালে ওসাদউদ্দিন ওয়েসি-র দল মিমের হয়ে ইটাহার আসন থেকে লড়াই করেন তিনি। ভোটবাক্সে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেননি তিনি। কিন্তু এলাকায় প্রবলভাবে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। সমাজমাধ্যমেও প্রবলভাবে জনপ্রিয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পরই মোফাক্কেরুল সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘আপনারা ভালো থাকুন’। অর্থাৎ বুঝিয়ে দেন এই গ্রেপ্তারিতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন তিনি।
