shono
Advertisement
Rajarhat

মায়ের উপর অ্যাসিড হামলা বাবার! অ্যাসিড আক্রান্তদের সাজিয়ে তুলতে চান মেয়ে প্রিয়াঙ্কা

রাজারহাটের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা দাস। আট বছর বয়সে চোখের সামনে তাঁর মায়ের উপর অ্যাসিড হামলা হতে দেখেছিলেন। বাবার ছোড়া অ্যাসিডে জখম হয়েছিল শিশুকন্যাও।
Published By: Jaba SenPosted: 02:19 PM Aug 03, 2026Updated: 02:31 PM Aug 03, 2026

পণ না দেওয়ায় বাবা অ্যাসিড ছুড়ে মায়ের সৌন্দর্য নষ্ট করে দিয়েছে। মেকআপ শিল্পী হয়ে অ্যাসিড আক্রান্তদের সাজিয়ে তুলতে চান মেয়ে প্রিয়াঙ্কা।

Advertisement

রাজারহাটের বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা দাস। আট বছর বয়সে চোখের সামনে তাঁর মায়ের উপর অ্যাসিড হামলা হতে দেখেছিলেন। বাবার ছোড়া অ্যাসিডে জখম হয়েছিল শিশুকন্যাও। তাঁর হাতে অ্যাসিড এসে পড়েছিল। এখনও হাতে সেই ক্ষত রয়েছে। সেই শিশুকন্যা প্রিয়াঙ্কা এখন অষ্টাদশী। স্নাতকের ছাত্রী। মা রিঙ্কু দাসের মতই তাঁরও জীবনে লড়াই চলছে। অ্যাসিড হামলার পরও মা মেয়ের মনোবল ভাঙেনি। বরং একে অপরের মনোবল জুগিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা।শনিবার কলকাতা পুলিশের আয়োজিত অ্যাসিড হামলা নিয়ে সচেতনতালমূলক সেমিনারে মায়ের সঙ্গে এসেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর মা এখন অ্যাসিড আক্রান্তদের নিয়ে কাজ করেন। আর প্রিয়াঙ্কাও ভবিষ্যতে তাঁদের নিয়ে কাজ করতে চান। রূপসজ্জার প্রতি তাঁর ঝোঁক রয়েছে। এই পথকে পেশা করতে চান তিনি।

প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'আমার মাও খুব সুন্দর দেখতে। অ্যাসিডে তাঁর গলা থেকে চোয়াল পর্যন্ত পুড়ে গিয়েছে। ঘরে মাকে মেকআপ করে দিই। মেকআপ করা ছোট থেকেই আমার সখ। আমি চাই মেকআপ শিল্পী হয়ে অ্যাসিড আক্রান্তদের সাজাব। মেকআপ কোর্স করব। তারপর মাকে আগে সাজাব। রিঙ্কুর এক ছেলে ও এক মেয়ে। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন তিনি। বিয়ের পর পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালাতেন। অত্যাচারের ঠেলায় স্বামীর ঘর ছেড়ে ভাড়া বাড়িতে এসে ওঠেন। ২০১৬ সালে রাস্তায় তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। ছোট্ট প্রিয়াঙ্কা তখন মায়ের হাত ধরে রয়েছে। দাদা তখন পিছনে।

প্রিয়াঙ্কা বলেন, "দাদা পিছনে দিদার সঙ্গে আসছিল। বাবা হঠাৎ এসে পথ আটকে মায়ের মুখে অ্যাসিড ছুড়ে পালিয়ে যায়। আমার কপালে ও হাতের ওপর অ্যাসিড পড়েছিল। মা যন্ত্রণায় তখন কাতরাচ্ছে। আমারও জ্বালা করছিল। আমাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মা অনেকদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। মাকে ফিরে পাবো তখন ভাবতে পারিনি। অ্যাসিড হামলার পর মা ও দুই ভাইবোনের ঠিকানা হয় মামা গোপাল সর্দারের বাড়ি। বাবা এখন জেলে।" প্রিয়াঙ্কা জানান, সেই ঘটনার পর আর কখনও বাবার মুখ দেখেননি। ওই বাড়িতেও আর যাননি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement