আনন্দপুরের মোমো কারখানা ও গুদামে আগুন (Anandapur Fire) লাগার পর পাঁচদিন কেটে গিয়েছে। একের পর এক দেহাংশ উদ্ধার হচ্ছে 'জতুগৃহ' থেকে। আরও চারটি দেহাংশ ধ্বংসস্তূপ থেকে পাওয়া গিয়েছে। এখনও অবধি মোট ২৫টি দেহাংশ উদ্ধার হল বলে খবর। সেই রাতে ঠিক কতজন সেখানে ছিলেন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।
এখনও আনন্দপুর নাজিরাবাদের অগ্নিদগ্ধ (Anandapur Fire) দুই গুদামে চলছে অনুসন্ধানের কাজ। তবে এই মুহূর্তে পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ওইদিন রাতে ঠিক কতজন শ্রমিকের উপস্থিতি ছিল। রবিবার ভোররাতের ঘটনার পরে মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুরের এলাচি থেকে গ্রেপ্তার হন ওই জায়গার এবং ডেকরেটর সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাস। বুধবার তাকে বারুইপুর আদালতে পেশ করে পুলিশ নিজেদের হেপাজতে নিয়েছে। ৪ ফেব্রুয়ারি আবার আদালতে পাঠানো হবে। তার আগেই পুলিশ ওই মালিককে জেরা করে কারখানা ও গুদামের বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার দিন কারখানা ও গুদামের দায়িত্বে কারা ছিলেন। বুধবার রাত থেকেই নাজিরাবাদের ঘটনাস্থলে জারি করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা। তা বলবৎ থাকবে আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত।
ঘটনাস্থলে বিজ্ঞপ্তিও ঝোলানো হয়েছে। এলাকায় মোতায়েন প্রচুর পুলিশ। কোথাও ৫ জনের বেশি মানুষকে জমায়েত করতে দিচ্ছে না পুলিশ। এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। দুটি স্তরে ব্যারিকেড করে ঘিরে রাখা হয়েছে ঘটনাস্থল। অন্যদিকে এদিন সকালে আর্থ মুভার, জেসিবি নিয়ে এসে ঘটনাস্থলে জড়ো করা জিনিসপত্র পরিষ্কার করার সময় আরও ৪ টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। ফলে দেহাংশ উদ্ধারের সংখ্যা ২৫ বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে সেগুলি একই ব্যক্তির, নাকি আলাদা জনের, তা স্পষ্ট নয়। তাও উদ্ধার হওয়া দেহাংশের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। যদিও পুলিশের তরফে কোনও কিছু নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে দেহাংশগুলি কার এবং তাঁদের নাম-পরিচয় জানার জন্য ডিএনএ ম্যাপিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবারই ডিএনএ ম্যাপিং শুরু হতে পারে বলে প্রশাসনের সূত্রে খবর। প্রশাসন মনে করছে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের সঠিক পরিচয় নির্ধারণে এই প্রক্রিয়া যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে এই অগ্নিকাণ্ডের উৎসস্থল নিয়ে প্রথম থেকেই ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছিল। কেন না ডেকরেটর সংস্থার মালিকের তরফে অগ্নিকাণ্ডের উৎস হিসাবে মোমো কারখানার দিকে আঙুল তোলা হয়েছিল। কিন্তু দমকল ও ফরেনসিকের প্রাথমিক রিপোর্ট অন্য কথাই বলেছে। জানা গিয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডের উৎস হিসাবে ডেকরেটর সংস্থাকেই দেখানো হয়েছে। ডেকরেটর্স গুদামের পশ্চিম দিকের ৩ তলা বাড়ি থেকেই আগুনের উৎপত্তি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে খবর। তারপর সেই আগুন ছড়ায় ডেকরেটর্স কারখানায়, গুদামে ও মোমো কারখানায়। এদিকে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ২৭ জন নিখোঁজ অভিযোগকারীর পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ ম্যাপিং করার জন্য রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
