সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অভয়া মঞ্চে বড়সড় ফাটল। জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট নিয়ে বিস্ফোরক চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো (Aniket Mahato)। সাংবাদিক বৈঠক থেকে দাবি করলেন, অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চলছে ফ্রন্ট। আন্দোলনের কোনও অগ্রগতি নেই। সেই কারণেই ফ্রন্টের পদ ছেড়েছেন বলে স্পষ্টভাবে জানালেন অনিকেত। তবে ফ্রন্ট ছাড়লেও এর প্রভাব সহযোদ্ধাদের সঙ্গে ব্যাক্তিগত সম্পর্কে পড়বে না বলেই সাফ জানালেন তিনি। পাশাপাশি এদিন পোস্টিং নিয়ে রাজ্য সরকারকে নিশানা করলেন অনিকেত। বললেন, "পোস্টিং নিয়ে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে রাজ্য।"
২০২৪ সালের আগস্টে আর জি কর হাসপাতালের সেমিনার রুমে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর খুন (RG Kar Case) করা হয় মহিলা চিকিৎসককে। তাঁর ন্যায়বিচারের দাবিতে কঠোর আন্দোলন শুরু করেন সহপাঠীরা। সিবিআই তদন্তভার নিয়ে খুব কম সময়ের মধ্যেই মামলার কিনারা করে ফেলে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাবাসে সাজা পায় সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। কিন্তু এই বিচারে সন্তুষ্ট হননি মৃতার পরিবার, আত্মীয়, বন্ধুরা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, কিছু বিষয় গোপনে রেখে, কাউকে আড়াল করে বিচারপ্রক্রিয়া চলেছে। আর তাই আজও তাঁদের আন্দোলন চলছে দেশের শীর্ষ আদালতে।
এমতাবস্থায় অভয়ার জন্য আইনি লড়াইয়ের খরচ সংগ্রহ করতে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট তৈরি করেছিল ‘অভয়া তহবিল।’ এই তহবিল নিযেই যত সমস্যার সূত্রপাত। আর্থিক তছরূপের অভিযোগ ওঠার পাশাপাশি ফ্রন্টের আন্দোলনের অভিমুখ বদলাচ্ছে বলেও অনেকে বলতে শুরু করেন। এসবের মাঝেই বৃহস্পতিবার ইস্তফা দেন ফ্রন্টের সভাপতি অনিকেত মাহাতো। ইস্তফাপত্রে তিনি জানান, বারবার মতানৈক্য সত্ত্বেও তিনি যতটা সম্ভব আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন। তিনি ও তাঁর সতীর্থ দেবাশিস হালদার, আসফাকুল্লা নাইয়াদের বদলি নিয়েও প্রতিবাদে মুখর হয়েছিলেন। ফ্রন্টের অসঙ্গতি নিয়ে বারবার নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও তাঁর কথায় কর্ণপাত করেনি কেউ। এই মুহূর্তে অনিকেতের মনে হয়েছে, ট্রাস্ট ও এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক ঠিক না করে, আইনি পরামর্শ উপেক্ষা করে যেভাবে ফ্রন্ট গঠন হয়েছে, তা অভয়ার ন্যায়বিচারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই ফ্রন্টের তরফে জানানো হয়, অনিকেতের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে পালটা মেল করা হয়েছে। যদিও শুক্রবারের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সাফ জানালেন তিনি কোনও মেল পাননি।
