অর্ণব আইচ: পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (Municipal Recruitment Scam) কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে এসেছে একাধিক তথ্য। আর সেসবের উপর ভিত্তি করেই শুক্রবার চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দিল সিবিআই। আলিপুর বিশেষ সিবিআই আদালতে জমা দেওয়া হয় চার্জশিট। তাতে একজন আইএএস আধিকারিকের নাম রয়েছে। আবার অয়ন শীলের সংস্থারও নাম রয়েছে।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের আইএএস আধিকারিক জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়কে অভিযুক্ত বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায় ডিরেক্টরেট অব লোকাল বডিজ বা ডিএলবি-এর গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে ছিলেন এই আমলা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ডিরেক্টর হিসাবে নিযুক্ত হন।
বলে রাখা ভালো, পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের ডিএলবির হাত ধরেই নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। নিয়োগের ক্ষেত্রে কারা বরাত পাবেন, সেদিকটাও ডিএলবিই দেখেন। সম্ভবত সেই সুযোগেই পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে (Municipal Recruitment Scam) তিনি জড়িয়ে পড়েন বলেই দাবি তদন্তকারীদের। জ্যোতিষ্মানের বাড়ি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও পান তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই চার্জশিটে নাম রয়েছে জ্যোতিষ্মানের। চার্জশিটে নাম রয়েছে অয়ন শীলের সংস্থা এবিএস ইনফোজোন প্রাইভেট লিমিটেডের। এর আগে প্রথম চার্জশিটে নাম ছিল অয়ন শীল ও দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাঁচুগোপাল রায়ের।
উল্লেখ্য, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেপ্তার হওয়া অয়ন শীলের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী পুরসভাগুলিতেও নিয়োগে বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ তোলে ইডি, সিবিআই। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত শুরুর গোড়াতেই অয়ন শীলকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। বিভিন্ন পুরসভায় প্রভাব খাটিয়ে নিজের প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। পরে এই মামলার তদন্তে নেমে চুঁচুড়া ও কলকাতায় তাঁর বাড়ি, অফিসে অভিযান চালিয়ে একশো কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ পেয়েছিল ইডি। উঠে এসেছিল একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মিলেছিল নারী যোগ। সেই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে চার্জশিট জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
