shono
Advertisement
Bagbazar Durga Puja

কাটল বাগবাজার পুজোর জট! নতুন কমিটি গঠন নিয়ে কী জানাল কলকাতা হাই কোর্ট?

নিম্ন আদালত নির্দেশে গত ৩০ আগস্ট দুই বিশেষ পর্যবেক্ষকের নজরদারিতে পুজো কমিটির ভোটাভুটি হয়। মোট ভোটার সংখ্যা ৭৭। যার মধ্যে ৬৬ জন সদস্য নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কিন্তু চরম নাটকীয় মোড়ে এসে দেখা যায়, সাধারণ সম্পাদক পদের দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই ৩৩টি করে সমান ভোট পান।
Published By: Subhankar PatraPosted: 04:08 PM Sep 15, 2026Updated: 05:04 PM Sep 15, 2026

১০৮ বছরের প্রাচীন বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গাপুজোর কমিটি (Bagbazar Durga Puja Committee) নিয়ে জট কাটল! মঙ্গলবার রায় দিয়ে বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্য জানালেন, বাগবাজারের পুজো কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সঠিক।বহাল নিম্ন আদালতের রায়। ১০ তারিখ শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রেখেছিল হাই কোর্ট। মঙ্গলবার আবেদনকারী রবিশংকর সেনগুপ্তের আবেদন খারিজ করা হয়েছে।

Advertisement

নিম্ন আদালত নির্দেশে গত ৩০ আগস্ট দুই বিশেষ পর্যবেক্ষকের নজরদারিতে পুজো কমিটির ভোটাভুটি হয়। মোট ভোটার সংখ্যা ৭৭। যার মধ্যে ৬৬ জন সদস্য নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কিন্তু চরম নাটকীয় মোড়ে এসে দেখা যায়, সাধারণ সম্পাদক পদের দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীই ৩৩টি করে সমান ভোট পান। আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন একই পরিবারের দুই ভাই-গৌতম ও ভাস্কর নিয়োগী। দু'জনেই সমান ভোট পাওয়ায় জয়ী প্রার্থী না মেলায় কমিটি নির্বাচনে জট কাটার বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। এ ছাড়াও ১২ জন কার্যকরী সদস্যর মধ্যে চারজন আবার ৩২টি করে ভোট পাওয়ায় সেখানেও 'টাই' হয়ে যায়। তবে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়ে যান।

জটিলতা কাটাতে তখন আদালত নিযুক্ত দুই পর্যবেক্ষক নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে বলেন। একপক্ষ দাবি করে, এই রকম পরিস্থিতি তৈরি হলে সভাপতির 'কাস্টিং ভোটে'র মাধ্যমে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া যায়। অন্যপক্ষ তা মানেনি। ফের নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হয় তাঁরা। নিম্ন আদালত, রায় দেয় সভাপতি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এই রায়ের পর, দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন ওই দুই পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের গুরুতর অভিযোগ তুলে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। একই সঙ্গে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে অশান্তি ও ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ করেন এক মহিলা সদস্যও। ১০ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি শুনানি হয়। তবে রায় দান স্থগিত ছিল। এ দিন রায়ে বলা হয়েছে, যে পদ্ধতিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে তা সঠিক।

১৯১৯ সালে প্রথম এই পুজো শুরু হয়। সেই সময় ৫৫ বাগবাজার স্ট্রিটে নেবুবাগান বারোয়ারি দুর্গাপূজা নামে পরিচিত ছিল পুজোটি। তারপর পশুপতি বোস লেন ও বাগবাজার কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় পুজো হয়। পরে যদিও স্থায়ীভাবে বাগবাজারে পুজো শুরু হয়। বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গোৎসব নামে কমিটি তৈরি হয়। ১৯৩০ সালে দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সভাপতি হন। ১৯৩২ সালে সোসাইটি অ্যাক্টে নথিভুক্ত করা হয়েছিল বাগবাজারের পুজো। ১৯৯৬, ২০০৪, ২০০৬, ২০১০ সালে নির্বাচন হয়। ১২ বছর পর সেই নির্বাচন জট তৈরি হয়। অবশেষে আদালতের নির্দেশে বিষয়টি মিটমাট হল!

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement