স্টাফ রিপোর্টার: খুলির হাড় ভেঙেছে ছোট্ট পালক্ষির। মাথায় রক্ত জমাট বেঁধেছে তার। বাবার হাত থেকে ফসকে গিয়ে চারতলার ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া ১ বছর ৩ মাসের শিশুর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তার। এই সময় সারাক্ষণই মেয়ের পাশে রয়েছেন মা।
উল্লেখ্য, শনিবার বেহালার পর্ণশ্রীর বিশালক্ষীতলায় ঘটেছে এই ঘটনা। শিশুকন্যাকে নিয়ে ছাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে খেলছিলেন দক্ষিণ পূর্ব রেলের কর্মী বাবা সুভাষচন্দ্র পাণ্ডা। তখনই হাত ফসকে নিচে পড়ে যায় শিশুটি। তাকে বাঁচাতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান বাবা। বাড়ির পাঁচিলে মাথা থেঁতলে গিয়ে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। শিশুটি চার তলার ছাদ থেকে একটি পেয়ারা গাছের উপরে গিয়ে পড়ে। গাছ থেকে সে পড়ে যায় পাশের বাড়ির উঠোনে। সেই কারণে প্রাণে বেঁচে গেলেও তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
[আরও পড়ুন: ‘রাজনৈতিক স্বার্থে ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত IPS অফিসারকে দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী’, তোপ রাজ্যপালের]
শনিবার বাবার মৃত্যুর কথা জানত না সুভাষবাবুর বড় ছেলে। এদিন পুরী ও ভুবনেশ্বর থেকে সুভাষচন্দ্র পাণ্ডা ও তাঁর স্ত্রী উপাসনা পাণ্ডার বাড়ির লোকেরা কলকাতায় আসেন। তাঁরাই ১২ বছরের ছেলেটিকে বাবার শেষকৃত্যর জন্য নিয়ে যান। বাবার দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে ওই বালক। তাকে মামারা আপাতত ওড়িশায় নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, ১ বছর ৩ মাসের শিশুকন্যা পালক্ষির মাথায় বড় ধরনের আঘাতের সঙ্গে সঙ্গে তার ঘাড়, পিঠ ও ডান পায়ে চোট রয়েছে। এসএসকেএমের ট্রমা কেয়ারে তার চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালে গিয়ে নজর রাখছেন প্রতিবেশীরাও। জানা গিয়েছে, মাঝে মধ্যেই শিশুটি যন্ত্রণায় কেঁদে উঠছে। খুঁজছে বাবাকেও। এদিকে, কীভাবে এই দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
