প্রোমোটারের কাছ থেকে তোলা চাওয়ার অভিযোগ উঠল এক বিজেপি (BJP) নেতার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই তাঁকে সাসপেন্ড করল দল। বেহালা ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘটনা। এই নিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই ওই নেতাকে সাময়িক সাসপেন্ড করে বিজেপি। তাঁকে শোকজও করা হয়েছে। ৭ দিনের মধ্যে তাঁর কাছ থেকে জবাব তলব করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
ওই বিজেপি নেতার নাম তুহিন পাল। তিনি নিউ আলিপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বেহালা ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি একটি বিল্ডিং তৈরির কাজ শুরু করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন কাশীনাথ মণ্ডল নামে এক প্রোমোটার। এই বিষয়টি জানতে পারেন ওই বিজেপি নেতা। অভিযোগ, এরপর ওই প্রমোটারকে ডেকে পাঠিয়ে তুহিন ৫ লক্ষ টাকা চান। এই টাকা না দিলে কাজ শুরু করা যাবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। সম্প্রতি একটি অডিও (যার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল) প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে এক ব্যক্তিকে টাকা চাইতে শোনা যাচ্ছে। তিনি বিজেপি নেতা তুহিন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে বেহালা থানার দ্বারস্থ হন কাশীনাথ মণ্ডল। তুহিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বিজেপি নেতৃত্ব।
চিঠিতে তুহিন পালকে জানানো হয়, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি, তোলাবাজি-সহ একাধিক দল বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ এসেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দলীয় সংবিধান বিরোধী। তাই পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সুপারিশে ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশানুশারে তাঁকে সাময়িক সাসপেন্ড করা হল। আগামী ৭ দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতেও বলা হয়েছে তুহিনকে।
উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর দুর্নীতি, তোলাবাজির ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে বিজেপি সরকার। এই সব অভিযোগে বহু তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। তবে শুধু তৃণমূল নয়, এসব দুর্নীতি দলের কেউ করলেও বরদাস্ত করা হবে বলে সাফ বার্তা দিয়েছে বিজেপি। এর আগেও দল বিরোধী কাজের অভিযোগে একাধিক বিজেপি নেতাকে শোকজ ও সাসপেন্ড করা হয়েছে। এবার বেহালার বিজেপি নেতা তুহিনকে সাময়িক সাসপেন্ড করা হল।
