'ডিম থেরাপি'র শিকার মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। কালীগঞ্জে আলিফা আহমেদের বাড়িতে মিটিংয়ে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন। 'রাজনৈতিক শত্রু' হলেও তৃণমূল সাংসাদের উপর হামলার বিরোধিতা করলেন সিপিএমের বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট বিকাশের। তিনি লেখেন, 'তাঁর বিরুদ্ধে জুলুম বাজির কোনও অভিযোগ আছে বলে আমার জানা নেই। যেভাবে তাঁকে হেনস্থা করা হল তা সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজের পক্ষে লজ্জার।' অন্যদিকে মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবও। তিনি টুইট করে লেখেন, 'বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করছে বিজেপি। ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। আদালত ও লোকসভার স্পিকারের এ বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।'
কালীঘাট তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক থেকে কুণাল ঘোষ, জয়প্রকাশ মজুদার থেকে জেলার ছোট-বড় নেতারা 'ডিম থেরাপি'র শিকার হয়েছেন। আগেও মহুয়াকেও ডিম ছোড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। বুধবার কালীগঞ্জে জনরোষের মুখে পড়েন তিনি। সেই ঘটনায় মহুয়ার পাশে দাঁড়ালেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ বিকাশ। তিনি লেখেন, 'মহুয়া মৈত্র আমার রাজনৈতিক শত্রু হতে পারেন। কিন্তু তিনি একজন সাংসদ। তাঁর বিরুদ্ধে জুলুমবাজির কোনও অভিযোগ আছে বলে আমার জানা নেই। যেভাবে তাঁকে হেনস্থা করা হল তা সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজের পক্ষে লজ্জার। এই অসভ্যতার বিরুদ্ধে সভ্য সমাজের প্রতিটি মানুষের প্রতিবাদ করা উচিৎ।"
মহুয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন অখিলেশ যাদবও (Akhilesh Yadav)। তিনি সোশাল মিডিয়ায় লেখেন, "বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতার বিষাক্ত পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তাদের এই নেতিবাচক ও আগ্রাসী আচরণে সমগ্র দেশের জনগণ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও বিক্ষুব্ধ।"
টুইট অখিলেশ যাদবের।
উল্লেখ্য, বুধবার নদিয়ার কালীগঞ্জে তৃণমূলের মিটিং ছিল। সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। বাইরে জাতীয় সড়কের উপর কালো পতাকা হাতে জড়ো হন জনতা। মহুয়া মৈত্র হায় হায়, মহুয়া মৈত্র গো ব্যাক স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। এরপর ওই পার্টি অফিসের জানালা দিয়ে মহুয়াকে দেখতে পেয়ে জাতীয় সড়ক থেকেই তাঁকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় একের পর এক ডিম। ডিমের পাশাপাশি কাদাও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। মহুয়া ও তৃণমূল কর্মীদের ঘেরাও করে রাখারও অভিযোগ ওঠে। এই সব অভিযোগ তুলে সমাজমাধ্যমে কয়েকটি ভিডিও শেয়ার করেন মহুয়া। তাঁর অভিযোগ, তাঁদের বেরতে দেওয়া হচ্ছে না। বিক্ষোভকারীরা সকলেই বিজেপির লোক। তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম-সহ একাধিক জিনিস ছোঁড়া হচ্ছে। ভিডিওতে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তারও অভিযোগ তোলেন সাংসদ। মহুয়া ভিডিওতে বলেন, “এটাই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। বিজেপির লোকজন জমায়েত করে ঘেরাও করে রেখেছে। জানালা দিয়ে আমার উপর হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু এসব দেখেও পুলিশ দাঁড়িয়ে রয়েছে। কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। জমায়েতকে সরাতেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।”
