রাজ্যে পালাবদল হতেই নতুন পথে পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ! শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা। এদিন পাহাড়ের সমস্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর উন্নয়নের জন্য একাধিক ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, পাহাড়বাসীর নাগরিক পরিষেবা অব্যাহত রাখতে আপাতত দার্জিলিং ছাড়া তিন পুরসভা - কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিকে প্রশাসক বসানো হল।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, গুরুং, রোশনদের দাবি মেনে পাহাড়ে উন্নয়নের জন্য কাজের রাস্তা পরিষ্কার করা হল। পাহাড় উন্নয়নের বিশেষ পরিকল্পনা বাবদ ৩ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘জিটিএ-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শামা পারভীনকে বলেছি, বিধায়ক-সাংসদদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে। এতদিন প্রতি অর্থবর্ষে পাহাড়ের জন্য নির্দিষ্ট টাকা বরাদ্দ করা হলেও কোনও কাজ করতে পারেনি জিটিএ।''
এদিনের বৈঠকে ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তাও। তাঁকে সামনে রেখে শুভেন্দু অধিকারী জানান, গুরুং, রোশনদের দাবি মেনে পাহাড়ে উন্নয়নের জন্য কাজের রাস্তা পরিষ্কার করা হল। পাহাড় উন্নয়নের বিশেষ পরিকল্পনা বাবদ ৩ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘জিটিএ-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শামা পারভীনকে বলেছি, বিধায়ক-সাংসদদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে। এতদিন প্রতি অর্থবর্ষে পাহাড়ের জন্য নির্দিষ্ট টাকা বরাদ্দ করা হলেও কোনও কাজ করতে পারেনি জিটিএ।''
ছাব্বিশের ভোটে পাহাড়জুড়ে কার্যত পদ্ম ফুটেছে। যদিও বরাবরই দার্জিলিং ও সংলগ্ন এলাকা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। এবার রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ে শামিল হয়েছেন পাহাড়বাসীও। তাঁদের আশা ছিল, নতুন সরকারের আমলে পাহাড়ের উন্নয়নের ছবিটা বদলে যাবে। তা যে নেহাৎ মিথ্যে নয়, এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকই তার প্রমাণ। পাহাড়ের একদা দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা তৃণমূল আমলে একাধিক মামলার জেরে দীর্ঘ সময় অজ্ঞাতবাসে ছিলেন। যদিও মাঝেমধ্যেই দিল্লিতে তাঁদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে বৈঠক করতে দেখা যেত। এবার রাজ্যে পালাবদলের পর নির্ভয় হয়ে ফিরেছেন গুরুংরা। এই মুহূর্তে জিটিএ অর্থাৎ পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য তৈরি স্বশাসিত গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দায়িত্বে থাকা অনীত থাপার ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা আসলে তৃণমূলের সঙ্গী। কিন্তু এই মুহূর্তে রাজ্যে তৃণমূলের যা অবস্থা, তাতে কতদিন অনীতরা জিটিএ ধরে রাখতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সেই সংশয় আরও দৃঢ় হল শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুং, গিরিদের বৈঠকে। পাহাড় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বিশেষত তিন পুরসভার বোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসানোয় অনেকেই মনে করছে, দ্রুতই সেখানে পুরনির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে জিটিএ-তেও ভোট হতে পারে। কারণ, জিটিএ স্বশাসিত এবং রাজ্য সরকারের সহযোগিতা পেলেও এতদিন কোনও কাজ করেনি বলে অভিযোগ পাহাড়বাসীরই। এবার বদলের বাংলায় তাঁরা পূর্ণাঙ্গ সুযোগ-সুবিধা চান।
