অভিযুক্ত বা অপরাধী হলেই কি তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো যায়! তাঁর মানবাধিকার বা সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা যায়! এই প্রশ্নে জনস্বার্থ মামলায় দায়ের হল কলকাতা হাই কোর্টে। সম্প্রতি হাওড়া-কাঁচরাপাড়া সহ কয়েকটি জায়গায় অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে রাস্তায় ঘোরানো, অন্তর্বাস পরিয়ে হাঁটিয়ে ক্রাইম সিনে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার মত পুলিশের কিছু পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এবার হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আইনজীবী ওমর ফারুক গাজী। আগামী ৫ জুন হাই কোর্টের গ্রীষ্মের অবকাশকালীন বেঞ্চেই এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
আদালতের কাছে আবেদনকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের মূল আর্জি, এভাবে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় ঘোরান দেশের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট গাইডলাইন থাকা সত্ত্বেও রাজ্য পুলিশ কেন বারবার এমন আচরণ করছে, মামলায় তা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, সে যে রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, যে দোষেই দোষী সাব্যস্ত হোক না কেন, তাঁকে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হোক। পুলিশ এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার কাজ আদালতের, পুলিশের নয়। হতে পারে দোষ অনুযায়ী সে কড়া সাজা পাবে, কিন্তু তাঁকে এভাবে কোমরে দড়ি পরিয়ে রাস্তায় ঘোরানো মানে একজন নাগরিকের মানবাধিকার বা সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা। যা সংবিধান বিরোধী।
কয়েক দিন আগেই হাওড়া জেলা পুলিশের একটি পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধে। এক দাগি অপরাধী আকাশ সিংকে স্যান্ডো গেঞ্জি এবং হাফ প্যান্ট পরিয়ে খাস হাওড়া শহরের রাস্তায় হাঁটিয়ে ‘ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন’ বা অপরাধের পুনর্নির্মাণ করায় পুলিশ। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ায় ঘটে আরেক ঘটনা। বীজপুরের দাপুটে তৃণমূল যুব নেতা তথা তোলাবাজি ও অস্ত্র মামলায় ধৃত বনিকে কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্য রাস্তায় ঘোরায় বীজপুর থানার পুলিশ। সেই সময় পুলিশি ঘেরাটোপের মাঝেই ধৃতকে লক্ষ্য করে আমজনতা ‘চোর চোর’ স্লোগানও দেয়।
