এসআইআর নিয়ে মানুষের হয়রানির শেষ নয়। এর মধ্যেই এক বিএলওর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব যাদবপুরের মুকুন্দপুর এলাকায়। মৃত ওই ব্যক্তির নাম অশোক দাস। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বাড়ির লোকজন। পরিবারের দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত চাপ ছিল। অন্যদিকে ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে যান কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি। পাশাপাশি কীভাবে এই ঘটনা তাও খোঁজ নেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, অশোক দাসের বাড়ি পূর্ব যাদবপুরের মুকুন্দপুর এলাকার অহল্যা নগরে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর এলাকার বহরু হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। বাংলায় চলা বিশেষ নিবিড় সংশোধন অর্থাৎ এসআইআরে বিএলও'র দায়িত্ব পেয়েছিলেন। পূর্ব যাদবপুরের চিতকালিকাপুর এফ.পি. স্কুলের ১১০ নম্বর ভোটকেন্দ্রের বিএলও হিসাবে কর্মরত ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিজের বাড়িতেই ঝুলন্ত অবস্থায় বাড়ির লোকজন দেখতে পান। সঙ্গে তাঁকে বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা অশোক দাসকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত বিএলও'র দিদি জানিয়েছেন, এসআইআর সংক্রান্ত চাপ ছিল। পাড়ায় চাপ ছিল। কীভাবে মৃত্যু তা তদন্ত করে দেখা উচিৎ। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কীভাবে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে এসআইআর 'আতঙ্কে' আরও একজনের মৃত্যুর অভিযোগ। জানা যায়, মৃত বৃদ্ধের নাম পুটু শেখ। বয়স ৬০ বছর। তিনি সামশেরগঞ্জ থানার রামেশ্বরপুর চাচন্ড গ্রামের বাসিন্দা। এসআইআর প্রক্রিয়ায় শেখ পরিবারের সকলের নামে শুনানির নোটিস আসে। শুনানির নোটিসে পুটুবাবুর নাম পুট আসে বলে দাবি পরিবারের। নোটিস ও তাতে নামের বানান ভুল থাকায় চিন্তায় ছিলেন বৃদ্ধ। এরমাঝে পরিবারে ছেলে, বউমার নামেও নোটিস আসতে শুরু করে। তারপর থেকেই তীব্র আতঙ্কে ভুগতে থাকেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার বৃদ্ধ ছাড়া বাড়ির সবাই শুনানি কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। ঘরে একাই ছিলেন বৃদ্ধ। সেই সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআরের নোটিস আসায়, সেই আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে পুটু শেখের।
