এবার খাস কলকাতায় বিস্ফোরণ। সাতসকালে পাইকপাড়ার ১/২ সি গাঙ্গুলিপাড়া লেনে বন্ধ থাকা ক্লাবে পরপর বিস্ফোরণে ছড়াল ব্যাপক আতঙ্ক। অভিঘাতে উড়ল বাড়ির টিনের চাল। পাশের বহুতলের ছাদে উড়ে গিয়ে পড়ে সেটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে কেউ বোমা রেখে গিয়েছে। নেপথ্যে প্রোমোটিং বিবাদ রয়েছে বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। বিধানসভা ভোটের মুখে বিস্ফোরণের নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘড়ির কাঁটায় সকাল ৬টা ১১ মিনিট। তখনও ঘুমঘোরে আচ্ছন্ন স্থানীয়রা। আচমকাই বন্ধ ক্লাবঘরে বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে চারিদিক। দৌড়ে ক্লাবঘরের কাছে যান স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কমপক্ষে ৫ বার বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পান। তাঁরা দেখেন ক্লাবঘরের টিনের চাল উড়ে গিয়েছে। বন্ধ দরজাও উড়ে গিয়েছে। লণ্ডভণ্ড ক্লাবে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। তড়িঘড়ি চিৎপুর থানায় খবর দেন স্থানীয়রা। খবর দেওয়া হয় বম্ব স্কোয়াডে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। বম্ব এবং ডগ স্কোয়াড ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
স্থানীয়দের দাবি, যে জায়গাটি বিস্ফোরণ হয়েছে সেটি একটি ক্লাব ছিল। ওই ক্লাব এবং ক্লাবঘর লাগোয়া জায়গাটি প্রোমোটিংয়ের কথা ছিল। তা নিয়ে সম্ভবত গণ্ডগোল চলছিল বলেই দাবি স্থানীয়দের। গত ৬-৭ মাস ধরে ক্লাবটি বন্ধ থাকত। তবে বহিরাগত অনেকে মাঝেমধ্যে আসতেন বলেই দাবি স্থানীয়দের। সম্ভবত প্রোমোটিং বিবাদের জেরে কেউ বা কারা ওই বন্ধ ক্লাবঘরে বোমা মজুত করে রেখেছিল বলেই অভিযোগ এলাকাবাসীর। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবে প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা। অবিলম্বে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন এবং ওই ক্লাবঘরের আশেপাশে সিসি ক্যামেরা লাগানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বলে রাখা ভালো, আর মাত্র কয়েকদিন পরই রাজ্যে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে খাস কলকাতায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক আরও বাড়ছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
