ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু সাধারণ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে! এর প্রতিবাদে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল ডোরিনা ক্রসিংয়ে ধরনায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Protest)। আর সেই ধরনা মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা গেল দলের নেতানেত্রী-সহ বহু বিশিষ্ট জনকেই। তাঁদেরই অন্যতম কবীর সুমন ও জয় গোস্বামী। মঞ্চ থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগতে দেখা গেল তাঁদের।
এদিন কবীর সুমনকে বলতে শোনা গেল, "এটা (ভোট) আমার অধিকার। মৌলিক অধিকার রক্ষার লড়াই। কারও অপছন্দ বলে কিছু করার নেই। আমি ভাবতে পারিনি বিজেপি এই পরিমাণে নির্বোধ। তাদের মাথায় কিচ্ছু ঢোকেনি। বিজেপি কিছুতেই জিতবে না। আমি আবারও বলি আমি তৃণমূল সমর্থক নই। আমাদের শহরটা আগে এত সুন্দর ছিল না মোটেই আমার পাশে বসে থাকা মানুষটির (মমতা) কল্যাণেই হয়েছে। বিধানচন্দ্র রায়ের পরেই... একবার কলকাতারা রাস্তাঘাট দেখুন। আগে কী ছিল?" পাশাপাশি মঞ্চে তিনি গেয়ে শোনালেন ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’। গান থামিয়ে সরস ভঙ্গিতে বললেন, ''বেচারা বিজেপি। ওদের গাল টিপে দেবেন। ওরা এমনিই ভোটে হেরে গেছে।'' পরে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে গাইলেন ‘পথে আবার নামো সাথী’।
ধরনা মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা গেল দলের নেতানেত্রী-সহ বহু বিশিষ্ট জনকেই। তাঁদেরই অন্যতম কবীর সুমন ও জয় গোস্বামী। মঞ্চ থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগতে দেখা গেল তাঁদের।
পাশাপাশি জয় গোস্বামীও কমিশনকে বিঁধলেন। তিনি বলেন, "অন্যায় হচ্ছে... মানুষের ভোট অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটা আমার ব্যক্তিগত কথা নয়। ৯০ বছর অতিক্রান্ত মানুষকে যেতে হচ্ছে প্রমাণ দিতে। কেউ আত্মহত্যা করছেন, মারা যাচ্ছেন।" স্মৃতিচারণ করে কবি জানান, তিনি তাঁর বাবার উৎসাহে অনেক অল্প বয়স থেকেই খবরের কাগজ পড়েন। এতদিনের অভিজ্ঞতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কোনও মুখ্যমন্ত্রী তিনি দেখেননি। তুলে আনলেন নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গও।
উল্লেখ্য, এদিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শশী পাঁজা, সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, দোলা সেন, মালা রায়, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়া-সহ অন্যান্যরা। ছিলেন 'সেনাপতি' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনিও বক্তব্য রাখেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি আগামিকাল বক্তব্য রাখবেন। এই ধরনা শনিবারও চলবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
