হুমকি এবং তোলাবাজির অভিযোগ। গ্রেপ্তারের শঙ্কায় কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন কীর্তি আজাদের (Kirti Azad)। আজ, মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে। দীর্ঘ শুনানি শেষে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদকে রক্ষাকবচ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, এখনই কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে তদন্তে সবরকম সাহায্য করতে হবে সাংসদকে। এমনকী আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সিআইডি দপ্তরে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে বলেও জানিয়েছে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চ। তবে এরপর তাঁকে তলব করা হলে সাতদিনের নোটিস দিতে হবে সিআইডিকে।
কীর্তির দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার দিন ছিলেন না দুর্গাপুরে। এই সংক্রান্ত একাধিক নথিও আদালতে জমা দেন সাংসদ।
অভিযোগ, গতবছর এক ব্যবসায়ীকে ফোন করেন দুর্গাপুরের বাংলোতে ডাকা হয়। সেই সময় কীর্তির এক সহযোগী ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা তোলা চান। এমনকী তা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গোপনে সম্পূর্ণ কথোপকথন রেকর্ড করেন ওই ব্যবসায়ী। সেই রেকর্ডকে হাতিয়ার করে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ কীর্তি আজাদ-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হন ওই ব্যবসায়ী। পরবর্তী সময়ে এফআইআর দায়ের করে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে সিআইডি ঘটনার তদন্তভার নেয়। যদিও কীর্তির দাবি, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার দিন ছিলেন না দুর্গাপুরে। এই সংক্রান্ত একাধিক নথিও আদালতে জমা দেন সাংসদ।
সম্প্রতি তাঁকে তলব করে সিআইডি। এরপরেই গ্রেপ্তারের শঙ্কায় আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন কীর্তি আজাদ। আজ, মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি হয়। শুনানিতে সাংসদের আইনজীবী একাধিক প্রশ্ন তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঘটনার ১৫ মাস পর এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এমনকী টাকা যে নেওয়া হয়েছিল সেই সংক্রান্ত কোনও তথ্য নেই। ফলত রাজনৈতিক উদ্দেশেই এই অভিযোগ। এরপরেই আদালত কালীঘাট তৃণমূলের এই সাংসদকে রক্ষাকবচ দেয়। শুধু তাই নয়, কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ারও নির্দেশ দেন। তবে তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে কীর্তি আজাদকে।
