১৩ বছর পর জেলমুক্তি হতে চলেছে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের। রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা দুটি মামলাতেও তাঁর জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবারই জামিন মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখে বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। আজ বুধবার শর্তসাপেক্ষে সারদাকর্তার জামিন মঞ্জুর করে আদালত। নির্দেশে আদালত জানিয়েছে, পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে। রাজ্যের বাইরে যেতে হলে লাগবে আদালতের অনুমতি। এমনকী বাড়ির ঠিকানা বদলের ক্ষেত্রেও তদন্তকারী আধিকারিককে জানাতে হবে। এছাড়াও সাক্ষীদের উপর কোনও প্রভাব খাটানো যাবে না। মাসে একবার হলেও স্থানীয় থানায় সুদীপ্ত সেনকে হাজিরা দিতে হবে। সহযোগিতা করতে হবে বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে। হাই কোর্টের এহেন নির্দেশে জেল থেকে বেরোনোর ক্ষেত্রে সুদীপ্ত সেনের আর কোনও আইনি বাধা রইল না। সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার সম্ভবত জেল থেকে ছাড়া পেতে পারেন সুদীপ্ত সেন।
১৩ বছর পর জেলমুক্তি হতে চলেছে সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের। রাজ্য পুলিশের হাতে থাকা দুটি মামলায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাই কোর্ট।
চিটফান্ড মামলায় বিচারাধীন বন্দি সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন। ১২ বছরের বেশি সময় কেটে গেলেও এখনও জেলমুক্তি হয়নি তাঁর। একাধিক মামলা এবং আইনি জটে জেলেই রয়েছেন সারদা কর্তা। রাজ্যের বিভিন্ন আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। কিন্তু সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টে সংশোধনাগার থেকে 'প্রিজনার্স পিটিশন' দাখিল করেন সুদীপ্ত সেন। আবেদন তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে কোনও শুনানি হচ্ছে না। বহু আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তাঁকে হাজির করানো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। হয় তাঁকে অনলাইনের 'ভার্চুয়ালি', না হয় 'ফিজিক্যালি' হাজির করানো হোক। আদালতে জামিনের আবেদনও জানান তিনি।
তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত সুদীপ্ত সেনের বিরুদ্ধে কটি মামলা আছে, সিবিআইয়ের কাছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট তলব করে। সিবিআইয়ের তরফে আইনজীবী অমাজিৎ দে রিপোর্ট দিয়ে জানান, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৩৮২টির মধ্যে ৭৬টি মামলা ছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে। সেই সংক্রান্ত সব মামলাতেই শর্তে জামিন পেয়েছেন সুদীপ্ত সেন। রাজ্যের করা মামলাগুলোতেও মিলেছে জামিন। শুধু বারাসত কোর্টে থাকা দুটি মামলা এখনও বিচারাধীন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ চূড়ান্ত রায়দান স্থগিত রাখেন। তবে এই চিটফান্ড সংস্থার টাকা ফেরানোর জন্য সারদা ও তালুকদার কমিটির তরফে বাজার থেকে তোলা টাকার হিসাব, বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির হিসাব, আমানতকারীদের কাছে বকেয়ার হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। আজ, বুধবার সুদীপ্ত সেনের জামিন মামলায় চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে কলকাতা হাই কোর্ট।
বলে রাখা প্রয়োজন, গত ২০১৩ সালে প্রকাশ্যে আসে সারদাকাণ্ড। ঘটনার পরেই দেবযানীকে নিয়ে সংস্থার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন গা ঢাকা দিয়েছিলেন কাশ্মীরের সোনমার্গে। সেখান থেকে তাঁদের প্রথমে গ্রেপ্তার করে রাজ্য পুলিশ। যদিও পরবর্তীকালে আদালতের নির্দেশে সারদা মামলা যায় সিবিআইয়ের হাতে। কিন্তু ধরা পড়ার পর থেকেই অর্থাৎ ২০১৩ সাল থেকেই জেলবন্দি অবস্থায় সুদীপ্ত সেন।
