আরও চাপে ফলতার 'ফেল' করা তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan)। মঙ্গলবার জাহাঙ্গিরের রক্ষাকবচের মেয়াদ আর বাড়াল না কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার পর্যন্ত জাহাঙ্গিরের রক্ষাকবচের মেয়াদ ছিল। সেই মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আদালতে আর্জি জানানো হয়েছিল। এবার বিচারপতি পার্থসারথী সেনের বেঞ্চের নির্দেশে, নতুন করে আর কোনও রক্ষাকবচ দেওয়া হল না তাঁকে। দুটি অন্তর্বর্তী মামলারই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করল আদালত।
প্রার্থী হিসেবে যে রক্ষাকবচ তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, সেটা কেন এখনও থাকবে, তা নিয়েও বুধবার প্রশ্ন ওঠে হাইকোর্টে। এরপরই তাঁর দুটি অন্তর্বর্তী মামলার রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হয়। অর্থাৎ জাহাঙ্গিরের গ্রেপ্তারিতে আর কোনও আইনি বাধাই রইল না।
এর আগে তাঁকে ৫ টি মামলায় অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta HC)। এবারও সেই আশাতেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন 'পুষ্পা'। কিন্তু বুধবারের শুনানিতে জাহাঙ্গিরের সেই আশায় জল ঢালল হাই কোর্ট। আগের প্রতিটি এফআইআরের ক্ষেত্রেই মূল অভিযুক্ত জাহাঙ্গির খান। প্রার্থী হিসেবে যে রক্ষাকবচ তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, সেটা কেন এখনও থাকবে, তা নিয়েও বুধবার প্রশ্ন ওঠে হাইকোর্টে। এরপরই তাঁর দুটি অন্তর্বর্তী মামলার রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হয়। অর্থাৎ জাহাঙ্গিরের গ্রেপ্তারিতে আর কোনও আইনি বাধাই রইল না।
বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের পর্যবেক্ষণ, ভোটের সময়ে মামলাকারীকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ যখন মামলা রুজু করেছে তখন তদন্ত তো হবেই। আমি যদি পুলিশি রিপোর্টে দেখতে পাই যে, অভিযোগের সাপেক্ষে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ আছে, তাহলে কিন্তু আপনার মক্কেলের পক্ষে তা ভালো হবে না।
ফলতা বিধানসভার পুননির্বাচনের আগে হাই কোর্টে আবেদন করে রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন জাহাঙ্গির। মঙ্গলবার ওই মামলাটি শুনানি হয় আদালতে। রাজ্য পুলিশ সেই মর্মে রিপোর্টও জমা দেয়। বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের পর্যবেক্ষণ, ভোটের সময়ে মামলাকারীকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ যখন মামলা রুজু করেছে তখন তদন্ত তো হবেই। আমি যদি পুলিশি রিপোর্টে দেখতে পাই যে, অভিযোগের সাপেক্ষে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ আছে তাহলে কিন্তু আপনার মক্কেলের পক্ষে তা ভালো হবে না। কেন রক্ষাকবচ তুলে নেওয়া হবে না? তা নিয়েও প্রশ্ন করেন বিচারপতি সেন। পাশাপাশি, ২০১৯ সালে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলাতেই রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন ফলতার 'পুষ্পা'। সেই রক্ষাকবচের মেয়াদ ফুরোচ্ছে বুধবারই। তাই মঙ্গলবার ফের সেই মামলাটি ওঠে হাই কোর্টে। আইনজীবীরা কেউ না থাকায় মামলাটি নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানো হয়। নির্বাচনের জন্য কোনও নথি না দেখেই ২৬ শে মে পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। ভোট মিটে গিয়েছে, এখন রক্ষাকবচ কেন প্রয়োজন? প্রশ্ন আদালতের।
আদালতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, তদন্তে সহযোগিতা করবেন এই শর্তে জাহাঙ্গির খানকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। তবে জাহাঙ্গির খান বাড়িতেই নেই, তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। পুলিশ আধিকারিকরা বাড়িতে গেছিলেন, খুঁজে পাওয়া যায়নি।
জাহাঙ্গিরের আইনজীবী কিশোর দত্ত এদিন আদালতের জানান, এই বিষয়ে জবাবের জন্য সময়ের প্রয়োজন। এরপরই আদালতের নির্দেশ, ফলতার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে মোট ৭টি মামলা দায়ের হয়েছিল। আগাম গ্রেপ্তারি এড়াতে তিনি বারবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। সেই সমস্ত মামলার রক্ষাকবচ এদিন তুলে নেওয়া হল। এদিন আদালতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, তদন্তে সহযোগিতা করবেন এই শর্তে জাহাঙ্গির খানকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। তবে জাহাঙ্গির খান বাড়িতেই নেই, তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। পুলিশ আধিকারিকরা বাড়িতে গেছিলেন, খুঁজে পাওয়া যায়নি। জেনারেল ডায়েরি করা হয়েছে জাহাঙ্গির নামে।
গোটা রাজ্যের একটি মাত্র বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের হয়। সেই ফলতারই তৃণমূল প্রার্থী ছিলেন জাহাঙ্গির খান। ভোটের আগে নিজেকে 'পুষ্পা' হিসেবে পরিচয় দিয়ে উঠে আসেন শিরোনাম। তার পুনর্নির্বাচনের সময় আসতেই ফলতার সেই 'শের' সেঁধিয়ে গেলেন ঘরে। ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগেই ময়দানে ছেড়ে পালানোর কথা ঘোষণা করে দেন। অভিষেকের সাজানো 'ডায়মন্ড হারবার' মডেল দুরমুশ করে ফলতায় তৃণমূলের জমানতই জব্দ হয়ে যায়। এবার ভোটের সময়ে পাওয়া হাই কোর্টের রক্ষাকবচের সুরক্ষাও আর রইল না। তবে কি 'পুষ্পা'র খেলা শেষ হতে চলেছে? অভিষেকের স্নেহধন্য তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তারি কি তবে সময়ের অপেক্ষা মাত্র!
