অক্ষত অবস্থায় নামানো সম্ভব নয়। ফলে সম্ভবত ভাঙাই পড়তে চলেছে লেকটাউনের মেসির মূর্তি। পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, মেসির ওই ৪৪ ফুটের বিশাল মূর্তি নামাতে গেলে সেটি ভেঙে পড়তে পারে। ফলে সামনের যে রাস্তা রয়েছে, বা ফ্লাইওভারের ক্ষতি হতে পারে। এমনকী মেসির মূর্তি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে যে ক্লক টাওয়ার রয়েছে, সেটাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে যা পরিস্থিতি ওই মূর্তি যদি শেষ পর্যন্ত নামাতেই হয়, তাহলে সেটা ভাঙা ছাড়া উপায় থাকবে না। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররাই।
মেসির কলকাতা সফরে ভার্চুয়ালি ৭০ ফুটের মূর্তিটির উদ্বোধন করেন খোদ আর্জেন্টিনীয় ফুটবল তারকা। পাশে ছিলেন বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। মূলত, তাঁর তত্ত্বাবধানে ও উদ্যোগে মূর্তিটি তৈরি হয়। শিল্পী মন্টি পাল নেতৃত্ব দেন গোটা প্রকল্পের। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই মূর্তির অবস্থা সঙ্গিন। হাওয়ায় দুলছে ৪৪ ফুটের বিশাল স্থাপত্যটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, মূর্তিটি ভেঙে বিপদ বাঁধতে পারে। সেই পরিস্থিতি যাতে না তৈরি হয়, তাই সোমবার সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে যান পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি আধিকারিক ও লেকটাউন থানার পুলিশ।
মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে যান আধিকারিকরা। একজন স্থাপত্য বিশেষজ্ঞ তথা অধ্যাপককেও নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁরা ঘটনাস্থল এবং মূর্তির ভিত পর্যবেক্ষণ করেন। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল, একটি বড় ক্রেন এনে ওই মূর্তিটিকে অক্ষত অবস্থায় নামানো হবে। কিন্তু এদিন পর্যবেক্ষণের পর বিশেষজ্ঞরা জানান, ওই বিশাল মূর্তি অক্ষত অবস্থায় নামানো সম্ভব নয়। সেটা করতে গেলে হিতে বিপরীত হিতে পারে।
মেসির মূর্তির নিচের অংশের মাটি ধসে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ, মূর্তিটির ভিত ততটা শক্ত নয়। সেটি ভেঙে পড়লে সামনের রাস্তা বা ক্লক টাওয়ারের ক্ষতি হতে পারে। মঙ্গলবার ওই মূর্তির শিল্পী মন্টি পালকেও ডাকা হয়। তাঁর কাজেও ওই মূর্তিটি কীভাবে তৈরি করা হয়েছে সেসব জানতে চাওয়া হয়। তাতে তিনি জানিয়েছেন, ওই মূর্তিটি একসঙ্গে তৈরি হয়নি। আলাদা আলাদা অংশ জুড়ে তৈরি করা হয়েছে। ফলে একসঙ্গে ভাঙা কঠিন। যা পরিস্থিতি তাতে মেসির ওই মূর্তি সরাতেই হবে। আর সেটা অক্ষত অবস্থায় করা অসম্ভব। উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর যুবভারতীর সামনের ‘বিদঘুটে’ মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। এবার সম্ভবত মেসির মূর্তির পালা।
