shono
Advertisement
Abhishek Banerjee

অভিষেকের খোঁজে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ সিআইডির! কলকাতা ফিরলেই গ্রেপ্তার?

সই জাল কাণ্ডে রক্ষা কবচ চেয়ে হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন অভিষেক। আজ, বুধবার সেই মামলার শুনানি হতে পারে।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 09:52 AM Jun 10, 2026Updated: 02:50 PM Jun 10, 2026

একবার নয়, সই জাল কাণ্ডে পরপর তিনবার সিআইডি হাজিরা এড়িয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তৃতীয়বার দিল্লিতে রয়েছেন জানিয়ে সিআইডির কাছে সময় চান তিনি। তারপরই অভিষেকের গতিবিধির খোঁজে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হল সিআইডির তরফে।ফলে জল যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, কলকাতা ফিরলেই গ্রেপ্তার হতে পারেন তৃণমূল 'সেনাপতি'। তবে সই জাল কাণ্ডে রক্ষা কবচ চেয়ে হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন অভিষেক। আজ, বুধবার সম্ভবত সেই মামলার শুনানি। ফলে এই মুহূর্তে হাই কোর্টে ঝুলে অভিষেকের ভাগ্য! 

Advertisement

সই জাল কাণ্ডে বেশ কিছুদিন ধরেই সিআইডির নজরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে তিনবার নোটিস দেওয়া হয়েছে। প্রথমবার অসুস্থতা, দ্বিতীয়বার কাজের 'অজুহাত', তৃতীয়বার দিল্লিতে রয়েছেন ও হাই কোর্টে মামলার কথা জানিয়ে হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে সই জাল কাণ্ডের তদন্তে রেজোলিউশনের কপির খোঁজে মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন সিআইডি আধিকারিকরা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সেখানে তল্লাশি চালান অফিসাররা। সূত্রের খবর, পরবর্তীতে অভিষেকের গতিবিধির খোঁজে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিআইডি। অর্থাৎ তিনি ফিরলেই সিআইডির মুখোমুখি হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। 

এদিকে সিআইডির হাত থেকে রক্ষা পেতে আগেই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। বুধে মামলার শুনানির সম্ভাবনা। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, মামলার রায়ের উপর ভিত্তি করেই কলকাতা ফিরবেন 'যুবরাজ'। তবে হাই কোর্টে ধাক্কা খেলে অভিষেককে যে প্রবল বিপাকে পড়তে হতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।  

কী এই সই জাল কাণ্ড? সূত্রপাত ভোটের ফল ঘোষণার পর। গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু। দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় সন্দেহ হয় সচিবের। জল গড়ায় থানায়। দায়ের করা হয় এফআইআর। তদন্তভার পেয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি। একাধিক বিধায়ককে জেরা করা হয়। দলের 'বিদ্রোহী' বিধায়কের অভিযোগের তির ছিল অভিষেকের দিকে। সেই কারণেই তাঁকে তলব করে সিআইডি।  

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement