গোলপার্কের পঞ্চাননতলার রোডে বোমা এবং গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুসোনা। যদিও ঘটনার তিনদিন কেটে গেলেও এখনও অধরা কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু। যদিও মঙ্গলবার ফেসবুকে লাইভ করে তাঁর দাবি, ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই যুক্ত নন তিনি। এমনকী রবিবার বাড়ির পুজোয় ব্যস্ত ছিলেন বলেও সেখানে উল্লেখ সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিত পোদ্দারের। অন্যদিকে দুপুরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁর ডানহাত বাবুসোনাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে শুভঙ্কর রায় ওরফে শুভ নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোড এলাকা। দু’পক্ষের মধ্যে চলে ইটবৃষ্টিও। এমনকী বোমাবাজি এবং গুলি (Golpark Firing) চালানোরও অভিযোগ ওঠে। রবিবারের এই ঘটনায় দক্ষিণ কলকাতার দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল ওঠে। ঘটনার পরেই রবীন্দ্র সরোবর থানায় তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। একটি অভিযোগ কসবার কুখ্যাত সোনা পাপ্পু ও তার ঘনিষ্ঠ বাবুসোনা এবং তাদের সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। পঞ্চাননতলার বাপি হালদার ও তাঁর লোকেদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগটি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দায়ের করেছে পুলিশ।
ঘটনার তদন্তে নেমে সোনা পাপ্পুর ডানহাত বাবুসোনা মণ্ডল ও বিপরীত গোষ্ঠী সাট্টা সঞ্জুর নাম উঠে আসে।
পুলিশের দাবি ছিল, রবিবার সন্ধ্যায় দুই বিপরীত গোষ্ঠী অর্থাৎ বাবুসোনা ও সাট্টা সঞ্জুর ‘নেতৃত্বে’ই হামলার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ এবং সিসিটিভিতে তাঁদের সরাসরি যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি করেন তদন্তকারীরা।
এরপরেই বাবুসোনার খোঁজে তল্লাশি শুরু করে কলকাতা পুলিশ। জানা যায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়েই মঙ্গলবার দুপুরে রাহুল দাস ওরফে বাবুসোনাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইতিমধ্যে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তাঁকে জেরা করেই অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুর খোঁজ পাওয়ার চেষ্টা তদন্তকারীদের?
জানা গিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই খোঁজ নেই সোনা পাপ্পুর। কার্যত অজ্ঞাতবাসে থেকেই মঙ্গলবার দুপুর সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। সেখানে সোনা পাপ্পুর দাবি, ''কয়েকদিন ধরেই শুনতে পাচ্ছি সোনা পাপ্পুকে অ্যারেস্ট করতে হবে। কারণ, রবিবার দিন নাকি সোনা পাপ্পু কোথায় ঝামেলা করেছে। ঘটনার দিন অর্থাৎ রবিবার দিন আমার বাড়িতে পুর্ণিমা ছিল। সকাল থেকে উপোস করে বাড়িতে বসেছিলাম। তাহলে কীভাবে ঝামেলা করতে গেলাম।'' যদিও তদন্তে পুলিশের অভিযোগ, বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর ইন্ধনে সংঘর্ষ হয়েছে। এর পিছনে রয়েছে কসবা ও রবীন্দ্র সরোবর অঞ্চলের দু’টি সিন্ডিকেটের মধ্যে পুরনো গোলমাল। অন্যদিকে ঘটনার পর থেকে আরও এক কুখ্যাত বাপি হালদারের নামও সামনে আসছে। জানা গিয়েছে, তিনিও ঘটনার পর থেকে পলাতক।
