ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার শুনানি পর্ব প্রায় শেষ পর্যায়ে। সব ঠিক থাকলে ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটারদের কাছে নোটিস পৌঁছে দেওয়ার সময়সীমা ছিল। যাঁদের শুনানি হয়ে গিয়েছে, তাঁদের তথ্য ২ তারিখের মধ্যে কমিশনের পোর্টালে আপডেট করার সময়সীমাও পেরিয়েছে। নতুন করে কোনও ভোটারের শুনানির নোটিস পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু লাখ টাকার প্রশ্ন কাঁদের নাম থাকবে, কাঁদের নাম বাদ যাবে?
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, খসড়া তালিকায় নাম থাকা যে সমস্ত ভোটারদের কাছে শুনানির নোটিস আসেনি তাঁদের নাম 'অটোমেটিক'ভাবে চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে। যাঁদের নামে নোটিস এসেছে তাঁদের নিয়েই যত ঝামেলা! জানা যাচ্ছে, শুনানির সময় কমিশনের নির্ধারণ করা ১৩টি নথির একটিও যাঁরা জমা দিতে পারেননি, তাঁদের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল! তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য নথি। যাঁরা ম্যাধমিকের অ্যাডমিট কার্ড দেখিয়েছেন, তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে বলেই সূত্র মারফত খবর।
এদিকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নতুন করে নোটিস শুনানি নোটিস জারি করা হয়েছে। তা ১ ফেব্রুয়ারি মধ্যে ভোটারদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আর নতুন করে কাউকে শুনানিতে ডাকা হবে না বলেই জানা গিয়েছে। যাঁদের কাছে নোটিস গিয়েছে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাঁদের শুনানি হবে।
অন্যদিকে, খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় ৫৮ লক্ষ ভোটারদের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁদের মৃত, স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট ভোটার বলে চিহ্নিত করেছে কমিশন। কিন্তু দেখা গিয়েছে, কমিশনের খাতায় অনেক 'মৃত' ভোটার আদতে জীবিত। এই নিয়ে দিল্লিতে কমিশনের সঙ্গে দেখা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা নিয়ে উত্তপ্ত দিল্লি তথা দেশের রাজনীতি। সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। বাদ যাওয়া ভোটারদের পক্ষে দাঁড়িয়ে তাঁর মন্তব্য, "খুনের অভিযুক্ত কোনও ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পান। কিন্তু ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁদের কোনও কথা না শুনে। ডুপ্লিকেট বা মৃত ভোটার নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই, কিন্তু জীবিত থাকার পর নির্বাচন কমিশনের খাতায় অনেক ভোটারকে মৃত দেখানো হয়েছে।"
