চারদিকে আজ ফুটবল উন্মাদনা। রাত গভীর হলেই নিউ জার্সির মেট লাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছেন লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। ফুটবলের মহারণ দেখতে আজ রাত জাগবে গোটা বিশ্ব। আশ্রমের সাদামাটা জীবনে এই আবহ থেকে কেন বঞ্চিত থাকবে খেলাপাগল শিশুরা? মাঠের লড়াইয়ের সেই উষ্ণতার আঁচ দিতে অভিনব উদ্যোগ নিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত দক্ষিণ কলকাতা সেবাশ্রমের শিশুদের জন্য বিশেষ ফ্যান জার্সি উপহার পাঠালেন তিনি। সেইসঙ্গে একটি চিঠি, যাতে লেখা - ফুটবলের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের গভীর অনুরাগ বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। ফাইনাল ম্যাচের উন্মাদনা শিশুদের মধ্যে আনন্দ, অনুপ্রেরণা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেবাশ্রমের অনাথ আশ্রমের শিশুদের জন্য বিশেষ বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর
শহরের ঐতিহাসিক এক প্রতিষ্ঠান দক্ষিণ কলিকাতা সেবাশ্রম। ১৯২৪ সালের ১১ মার্চ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শতাব্দীপ্রাচীন এক গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক। নেতাজি কলকাতার মেয়র থাকাকালীন এই আশ্রমের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য জমি বরাদ্দ করেছিলেন এবং বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পৌত্র, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাইপো চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়ের নামও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে। বর্তমানে এখানে ৫৭ জন অনাথ শিশু থাকে। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের দিন সেই শিশুরা যাতে খেলার মাঠের উত্তেজনা অনুভব করতে পারে, তার জন্য এগিয়ে আসেন শুভেন্দু অধিকারী।
সেবাশ্রমের শিশুদের নামে নামে ফ্যান জার্সি উপহার শুভেন্দুর
শ্যামাপ্রসাদের মহান ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী দক্ষিণ কলিকাতা সেবাশ্রমের সম্পাদক শ্রী শুভেন্দ্র মৌলিককে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি আবেগঘন ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে দক্ষিণ কলিকাতা সেবাশ্রম কেবল একটি সাধারণ প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ও নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর আদর্শে অনুপ্রাণিত এক গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক। তিনি আরও লিখেছেন যে ফুটবলের প্রতি পশ্চিমবঙ্গের গভীর অনুরাগ বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত এবং ফিফা বিশ্বকাপ হলো শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা ও সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে স্বপ্ন দেখার সাহসের এক অনন্য উদযাপন।
ফ্যান জার্সি উপহার পেয়ে আহ্লাদে আটখানা অনাথ আশ্রমের শিশুরা
মুখ্যমন্ত্রীর দৃঢ় বিশ্বাস যে এই আয়োজন শিশুদের মধ্যে আনন্দ, অনুপ্রেরণা ও আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করবে এবং সঠিক শিক্ষা ও সমাজের আন্তরিক সহযোগিতায় তারা নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তবের রূপ দিয়ে আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে দেশ ও সমাজের গর্ব হয়ে উঠবে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আশ্রমের আবাসিক শিশুদের জন্য ফুটবল এবং প্রত্যেক শিশুর নিজস্ব নামাঙ্কিত বিশেষ ফ্যান জার্সি উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন।
